জাজিরায় ভ্যানের জন্য হত্যা করা হলো কিশোর চালককে

News Editor
প্রকাশ: ১ বছর আগে

সানজিদ মাহমুদ সুজন, জেলা প্রতিনিধি শরীয়তপুর: শরীয়তপুরের জাজিরায় সামান্য একটি ভ্যান ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে হত্যা করা হলো প্রান্ত(১৪) নামক এক কিশোর বয়সী ভ্যান চালককে। নিহত প্রান্ত জাজিরা উপজেলার বিলাশপুর ইউনিয়নের চেরাগ আলী বেপারী কান্দির মৃত আতিকুর রহমানের ছেলে। নিহত প্রান্তের পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত (১২-ফেব্রুয়ারি) রবিবার বাড়ি থেকে ভ্যান নিয়ে কাজীরহাটের উদ্দেশ্যে বের হয় প্রান্ত। তারপর থেকেই নিখোঁজ ছিলো ছেলেটি। এই বিষয়ে পরদিন (১৩-ফেব্রুয়ারি) জাজিরা থানায় ৫৯৩ নম্বরের একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন নিহতের স্বজনরা। জাজিরা থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তারা তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে নুরুল ইসলাম নুরু(৩৫) নামের একজনকে আটক করে তার স্বীকারোক্তির মাধ্যমে (১৭-ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০ টার সময় সেনেরচর আফাজ উদ্দিন বেপারী কান্দির একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে তার লাশ উদ্ধার করে। এ বিষয়ে মো: নুরুল হক(৩৬), এমদাদুল(২৭) এবং মো: ইদ্রিস(৫৫) নামে মোট তিনজনকে গ্রেফতার করেছে জাজিরা থানা পুলিশ। নিহত প্রান্ত’র মামা এসকান্দার আলী জানান, আমার ভাগিনা প্রান্ত’র বাবা মারা যাওয়ায় পড়াশোনা করতে পারেনি বরং ভ্যান চালিয়ে সংসার চালাতো। গত (১২-ফেব্রুয়ারি) স্বাভাবিকভাবেই ভ্যান নিয়ে কাজীরহাটে যাওয়ার পর থেকেই তাকে আর খুঁজে পাইনি আমরা। অবশেষে ওর লাশ পেলাম, সামান্য ভ্যানের জন্য আমার ভাগিনাকে মেরে ফেললো ওরা। ৫৯৩ নম্বর সাধারণ ডায়েরির তদন্ত কর্মকর্তা জাজিরা থানার পুলিশ উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো: শহীদুল ইসলাম জানান, গত (১৩-ফেব্রুয়ারি) জাজিরা উপজেলার বিলাশপুর ইউনিয়নের চেরাগ আলী বেপারী কান্দির মৃত আতিকুর রহমানের ছেলে প্রান্ত(১৪) নিখোঁজ সংক্রান্ত একটি জিডি হলে তা তদন্ত করতে গিয়ে আসামিদের সন্দেহ হলে তাদেরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করার পরে লাশটি উদ্ধার করি। জাজিরা থানার পুলিশ-পরিদর্শক মো: সুজন হক জানান, আমরা ৫৯৩ নম্বর জিডির অনুসন্ধান করতে গিয়ে নুরুল হক নুরু নামে একজনের সংশ্লিষ্টতা পেয়ে তাকে গ্রেফতার করি এবং তার তথ্যমতে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে অন্যান্য কয়েকজন আসামিকে গ্রেফতার করি। এছাড়া তাদের তথ্যমতে নিখোঁজ প্রান্ত’র অর্ধ গলিত লাশ এবং তার ভ্যানটি উদ্ধার করি। লাশটি পোস্টমর্টেম করার জন্য পাঠানো হয়েছে। জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আমরা ৫৯৩ নম্বরের সাধারণ ডায়েরির তদন্ত করতে গিয়ে প্রথমে নুরুল ইসলাম নুরু নামে একজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার এক পর্যায়ে সে প্রান্তকে ভ্যান নেয়ার জন্য হত্যার কথা স্বীকার করে। পরে তার দেখানো স্থানে গিয়ে আমরা লাশটি উদ্ধার করি। এ বিষয়ে একটি মামলার প্রস্তুতি চলছে।