অনলাইন ডেস্কঃ
অস্ট্রেলিয়ার সিডনি হারবারের নীল জলরাশির পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বিশ্ব স্থাপত্যের বিস্ময় সিডনি অপেরা হাউসে ইতিহাস গড়লেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় এই প্রথম সেখানে উদ্যাপিত হলো বাঙালির প্রাণের উৎসব ‘বৈশাখী উৎসব ও আনন্দ’। হাজার মাইলের দূরত্ব ঘুচিয়ে সিডনির আইকনিক এই স্থাপত্য যেন হয়ে উঠেছিল একখণ্ড বাংলাদেশ। বিশ্বমঞ্চে লাল-সবুজ পতাকাকে তুলে ধরার আনন্দে মেতে উঠেছিলেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।
অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় ঐতিহ্যের কেন্দ্রবিন্দুতে লাল-সবুজের এই উদ্যাপন ছিল মনোমুগ্ধকর, যা সিডনির বুকে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের বলিষ্ঠ পদচিহ্ন হয়ে থাকবে। বর্ণাঢ্য এই উৎসবে বৈশাখী শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রবাসী বাঙালিরা তাঁদের শিকড়কে তুলে ধরেন।
ঐতিহাসিক এ আয়োজনে শুভেচ্ছাবাণী পাঠান অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ। বাণীতে তিনি অস্ট্রেলিয়ার উন্নয়নে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অসামান্য অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রিমিয়ার ক্রিস মিনসের উপস্থিতি। জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন দেখে উচ্ছ্বসিত মিনস বলেন, ‘সিডনির বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতিতে বাংলাদেশিরা এখন এক অপরিহার্য শক্তি। অপেরা হাউসের এ আয়োজন বাঙালির সামাজিক ও রাজনৈতিক উত্থানেরই প্রমাণ।’
বৈশাখের এই অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্ব ছিল সিডনি প্রবাসী বাংলাদেশি শিল্পীদের কণ্ঠে বাংলা গান। বাংলা গানের সুর যখন অপেরা হাউসের হলের দেয়ালে প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল, তখন উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। আয়োজকেরা জানান, আসনসংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি আবেদন জমা পড়ায় লটারির মাধ্যমে টিকিট বণ্টন করতে হয়েছে। হলের প্রতিটি কোণ ছিল দর্শকে কানায় কানায় পূর্ণ।
আয়োজকদের সামনের সারির একজন আবু রেজা আরেফিন বলেন, ‘আজ আমাদের স্বপ্ন সত্যি হলো। সিডনি অপেরা হাউসের মতো জায়গায় আমাদের সংস্কৃতিকে তুলে ধরা দীর্ঘদিনের সাধনা ছিল। বাঙালির এই মিলনমেলা প্রমাণ করেছে, প্রবাসে থাকলেও হৃদয়ে সব সময় বাংলাদেশ থাকে। দর্শকদের অভূতপূর্ব সাড়া দেখে আমরা সত্যিই অভিভূত।
৫৭০/১ স্টেডিয়াম রোডে মানিকগঞ্জ - ১৮০০থেকে প্রকাশিত। ফোন -০১৯৬৮৮০০৯৩০
ইপেপার