জামালপুর প্রতিনিধিঃ জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জের মেধাবী ছাত্র জামিল আহামেদ আমেরিকায় পিএইচডি করতে গিয়ে লাশে পরিণত হয়েছেন। এ ঘটনায় পরিবারের মাঝে এখন চলছে শোকের মাতম।
যুক্তরাষ্ট্রে ১০ দিন ধরে নিখোঁজের পর শুক্রবার দিবাগত রাতে জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ উদ্ধার করেছে মার্কিন পুলিশ। জামিল ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। এ ঘটনায় জামিল আহমেদ লিমনের রুমমেট হিশাম আবুঘারবিয়াহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
জানা গেছে, মাদারগঞ্জ উপজেলার কড়ইচূড়া ইউনিয়নের মহিষবাতান এলাকার নলডোবা গ্রামে নিহত জামিল আহামেদের বাড়ী। তার বাবার নাম জহুরুল হক। বাবা ঢাকা গাজীপুরে বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করেন। সে সুবাধে তারা ঢাকায় থাকতেন বহু বছর হলো।
জামিলের চাচা জিয়াউল হক বলেন, বহু বছর আগে তারা গ্রাম ছেড়ে ঢাকায় চলে গেছে। মাঝে মধ্যে তাদের সঙ্গে ফোনে কথা হতো। কথা হয় জামিলের মা লুৎফুন নেছার সঙ্গে। তিনি বলেন, তার দুই ছেলের মধ্যে জামিল আহামেদ লিমন বড়। তার ছোট ছেলে জোবায়ের। তার বাবা জহুরুল হক ঢাকা গাজীপুরে বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করেন। ছেলে জামিলের সঙ্গে মায়ের শেষ কথা হয়েছিল গত পহেলা বৈশাখে। শোকাহত মা জানান, সেদিন সকালে ছেলে জামিল ফোন করে জানতে চায়, মা তুমি পান্তা-ইলিশ খেয়েছ।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, জামিল পড়াশোনার খুব চাপে থাকত, তেমন কথা হতো না। বাংলা নববর্ষের সকালে ফোন দিয়ে শুধু জানতে চাইলো, আমি পান্তা-ইলিশ খেয়েছি কিনা। তিনি বলেন, তার জানা মতে, জামিলের সঙ্গে কারো কোনো শত্রুতা ছিলো না। ছেলে হারানোর শোকে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এর চেয়ে বেশি কিছু বলার শক্তি হারিয়ে ফেলেন তিনি।
নিহত জামিলের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে তারা বর্তমানে কোথায় অবস্থান করছেন, তা প্রকাশ করতে চান না। একইসঙ্গে জামিলের বাবা জহুরুল হকও গুরুতর অসুস্থ বলে জানিয়েছেন তার মা। জামিলের আকস্মিক মৃত্যুর খবরে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
৫৭০/১ স্টেডিয়াম রোডে মানিকগঞ্জ - ১৮০০থেকে প্রকাশিত। ফোন -০১৯৬৮৮০০৯৩০
ইপেপার