
স্টাফ রিপোর্টার:
ঢাকা ও মুন্সিগঞ্জ জেলা জুড়ে বিস্তৃত দেশের সর্ববৃহৎ ও অন্যতম প্রাচীন প্লাবনভূমি আড়িয়াল বিলের দেশি মাছে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক বা প্লাস্টিকের অতিক্ষুদ্র কণার উপস্থিতি ধরা পড়েছে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় এ উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এসেছে। গবেষণার এ ফল সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষণায় আড়িয়াল বিল থেকে সংগৃহীত কই, বাটা, মেনি, গুলশা টেংরা ও পুঁটি মাছের অন্ত্র, ফুলকা এবং মাংসপেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। এতে দেখা যায়, সব ধরনের মাছের মধ্যেই কম-বেশি প্লাস্টিকের ক্ষুদ্র কণা বিদ্যমান।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, সর্বভুক স্বভাবের কই মাছে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে। বিশেষ করে কই মাছের মাংসপেশিতে গড়ে অন্তত একটি করে মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা মিলেছে। কইয়ের পর সবচেয়ে বেশি প্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে তৃণভোজী স্বভাবের বাটা মাছে।
গবেষকদের মতে, দুষিত বা প্লাস্টিকমিশ্রিত মাছ খেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে শরীরে বড় কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা না দেখা গেলেও এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক। মানবশরীরে এসব ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা দীর্ঘ সময় ধরে জমা হতে থাকলে ২৫ থেকে ৩০ বছর পর কিংবা পরবর্তী প্রজন্মের শরীরে এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। প্রাকৃতিক জলাশয়ে প্লাস্টিক দূষণ রোধে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে দেশের মৎস্য সম্পদ ও জনস্বাস্থ্য উভয়ই চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
৫৭০/১ স্টেডিয়াম রোডে মানিকগঞ্জ - ১৮০০থেকে প্রকাশিত। ফোন -০১৯৬৮৮০০৯৩০
ইপেপার