অভিযোগ বার্তা ডেস্কঃ
২০১০ সালে প্রথমবারের মতো সেখানে লক্ষ্য করা যায় অদ্ভুত এক ঘটনা। গ্রামের মানুষ হঠাৎ করেই যেকোনো সময়, যেকোনো অবস্থায় গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়তে শুরু করেন। ২০১৩ সাল থেকে এ ঘটনা আরও প্রকট রূপ নেয়। কেউ স্কুলের অ্যাসেম্বলিতে দাঁড়িয়ে, কেউ মোটরসাইকেল চালাতে চালাতে, আবার কেউ বা হাঁটতে হাঁটতেই ঘুমিয়ে পড়েন। কারও ঘুম দুই দিন স্থায়ী হয়, আবার কেউ কেউ আট দিন পর্যন্ত ঘুমিয়ে থাকেন।
এই রহস্যজনক রোগে আক্রান্ত হয়ে জেগে ওঠার পর মানুষের স্মৃতিভ্রংশ হয়, দেখা দেয় প্রচণ্ড দুর্বলতা, মাথা ঝিম ধরা, বমি-বমি ভাব এবং অনেকের ক্ষেত্রে দৃষ্টিভ্রমও ঘটে। আক্রান্তদের হাঁটাচলায় অক্ষমতাও দেখা যায়। কালাচির প্রায় ১৪ শতাংশ মানুষ এ রোগে ভুগছেন। পাশাপাশি পাশের শহর ক্রাসনোগোরস্কও ধীরে ধীরে আক্রান্ত হয়েছে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা এখনও এর সঠিক কারণ খুঁজে পাননি। কেউ কেউ মনে করেন, মস্তিষ্কে অস্বাভাবিক তরলের উপস্থিতির কারণেই এমনটি হতে পারে। আবার কেউ সন্দেহ করছেন মেনিনজাইটিস জাতীয় ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার প্রভাবকে।
গ্রামের বহু মানুষ ভয় আর অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। কেউ কেউ সন্তানদের নিয়ে অন্য শহরে চলে যাচ্ছেন, আবার অনেকে জন্মভূমি ছেড়ে যেতে চাইছেন না। একসময় কর্মচাঞ্চল্যে ভরা শহর ক্রাসনোগোরস্ক এখন প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়েছে। কালাচি গ্রামও ধীরে ধীরে পরিণত হচ্ছে এক ভুতুড়ে জনপদে।
বিগত দশ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই রহস্য উন্মোচনের চেষ্টা হলেও বিজ্ঞানীরা আজও কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। তাই কালাচি আজও রয়ে গেছে এক অমীমাংসিত রহস্য, যেখানে ঘুম একদিকে মানুষের প্রাকৃতিক চাহিদা হলেও অন্যদিকে মৃত্যুভয়ের মতো আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ কারণেই কালাচিকে বলা হয় “মায়াপুরীর গ্রাম”, যেখানে বাস্তব জীবনে রূপকথার মতো হঠাৎ ঘুম মানুষের ভাগ্য নির্ধারণ করে।
৫৭০/১ স্টেডিয়াম রোডে মানিকগঞ্জ - ১৮০০থেকে প্রকাশিত। ফোন -০১৯৬৮৮০০৯৩০
ইপেপার