নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
সিলেট জেলার কানাইঘাট উপজেলার কানাইঘাট পৌরসভার নির্বাচন হয়েছিল পাঁচ বছরেরও একটু বেশি সময় আগে, ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি। সেই নির্বাচনে কানাইঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি লুৎফুর রহমানকে মেয়র ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই সময় হাইকোর্টের আদেশে গেজেট ও শপথ স্থগিত করা হলেও, আপিল বিভাগে আপিলের সুযোগে মেয়র পদে বসে পড়েন অভিযুক্ত এই স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা।
নির্বাচনের প্রায় পাঁচ বছর পর ভোট কারচুপির মাধ্যমে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণার বিষয়টি প্রমাণিত হয়। এ কারণে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন আদালতের আদেশে জোর করে হারিয়ে দেওয়া প্রার্থী কানাইঘাট উপজেলা বিএনপির ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক মো. সোহেল আমিনকে বিজয়ী ঘোষণা করে ২ মার্চে সংশোধিত গেজেট প্রকাশ করে। শনিবার (৬ মার্চ) বিষয়টি সামনে আসে।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত সংশোধিত গেজেটে বলা হয়, সেই সময় নির্বাচিত ঘোষণা করা লুৎফুর রহমানের নাম বাতিল করে সেখানে মো. সুহেল আমিনের নাম প্রতিস্থাপন করা হল।
অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগে ভোট পুনঃগণনা দাবি জানিয়ে নির্বাচনের পরপরই মামলা করেছিলেন বিএনপি নেতা সুহেল আমিন। সেই মামলার প্রেক্ষিতে সিলেটের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ এবং নির্বাচনি ট্রাইবুনালের বিচারক বিশ্বেশ্বর সিংহ গত ৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রদত্ত রায়ে ‘স্বতন্ত্র’ প্রার্থী মো. সোহেল আমিনকে বিজয়ী ঘোষণা করেন।
জানা যায়, সোহেল আমিনের ভোট কম দেখিয়ে তাকে পরাজিত দেখানো হয়েছিল এবং নৌকা প্রতীকের প্রার্থী লুৎফুর রহমানকে ১৪৬ ভোট বেশি পেয়ে ‘নির্বাচিত হয়েছেন’ মর্মে মেয়র ঘোষণা করা হয়েছিল। অথচ, গত ১০ নভেম্বর আদালতের সামনে ভোট পুনঃগণনায় দেখা গেছে— স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সোহেল আমিন ৬৮৪ ভোট বেশি পেয়েছিলেন। এর পর ৭ জানুয়ারি তারিখে প্রদত্ত রায়ে তাকে মেয়র ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশের জন্য নির্বাচন কমিশনকে আদেশ দেওয়া হয়।
আদালতের রায়ে গেজেট প্রকাশের পর সোহেল আমিন সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচনে আমার প্রাপ্ত ভোট বেশি থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকায় সেই সময় ক্ষমতার প্রভাবে জোরপূর্বকভাবে ফলাফল ছিনিয়ে নেওয়া হয়। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি লুৎফুর রহমানকে বিজয়ী ঘোষণা করা ছিল সম্পূর্ণ অবৈধ। আমি এই ফলাফলের বিরুদ্ধে নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছিলাম। তিন কেন্দ্রে ভোট জালিয়াতি ও কারচুপির সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আদালত পুনরায় ভোট গণনা করে প্রমাণ পেয়েছেন।
৫৭০/১ স্টেডিয়াম রোডে মানিকগঞ্জ - ১৮০০থেকে প্রকাশিত। ফোন -০১৯৬৮৮০০৯৩০
ইপেপার