মোঃ রাসেল রানা,জামালপুর:
জামালপুর সদর উপজেলার বাশচড়া ইউনিয়নের কাশারুপাড়া দাখিল মাদ্রাসায় সুপার ইউসুফ আলীর বিরুদ্ধে একের পর এক অনিয়মের অভিযোগ উঠে আসছে। স্থানীয় বাসিন্দা, অভিভাবক ও প্রতিষ্ঠানের স্টাফদের অভিযোগ—সুপার দীর্ঘদিন ধরে নিজের ইচ্ছেমতো প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন এবং কোনো নির্দেশনা বা নিয়মকানুনই মানছেন না। এতে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মাদ্রাসাটি সুপারের বাড়ির পাশে হওয়ায় তিনি নিয়মিত দায়িত্ব পালন না করে নিজের সুবিধামতো আসা–যাওয়া করেন। অভিযোগ রয়েছে, স্টাফরা প্রতিবাদ বা আপত্তি তুললে তিনি তাদের হুমকি–ধমকি দেন। এতে শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, যা দীর্ঘদিন ধরে চাপা থাকলেও সম্প্রতি তা প্রকাশ্যে আসে।
গত ৭ ডিসেম্বর (রবিবার) দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটেই মাদ্রাসাটি বিনা নির্দেশে বন্ধ করে দেওয়া হয়—যা এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। অভিভাবক ও এলাকাবাসী বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে বিভিন্ন দপ্তরে জানান। খবর পেয়ে স্থানীয় সংবাদকর্মী ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা অফিস পরিদর্শনে গেলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।পরিদর্শনকালে দেখা যায়—প্রতিষ্ঠানটির সব দরজা–জানালা বন্ধ,কোনো শিক্ষক–কর্মচারীর উপস্থিতি নেই এবং জাতীয় পতাকাও উত্তোলন করা হয়নি।
এ বিষয়ে জামালপুর সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. ছানোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন—
“অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিন পরিদর্শনে এসে অভিযোগের সত্যতা পাই। এজন্য সুপারের বিরুদ্ধে তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে কারণ দর্শানোর নোটিশ ইস্যু করা হয়েছে।”
অভিযুক্ত সুপার ইউসুফ আলীর বক্তব্য নিতে মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি নাজনীন আখতার বলেন—
“অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্ট দপ্তর বিষয়টি তদারকি করছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে নিয়ম অনুযায়ী যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে মাদ্রাসার স্বাভাবিক শিক্ষা পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।
৫৭০/১ স্টেডিয়াম রোডে মানিকগঞ্জ - ১৮০০থেকে প্রকাশিত। ফোন -০১৯৬৮৮০০৯৩০
ইপেপার