অভিযোগ বার্তা ডেস্কঃ
ভরা বর্ষার সময় হলেও নদ-নদীর পানি এখনো খাল-বিলে প্রবেশ করেনি। এতে পানির অভাবে চলনবিল অঞ্চলের কৃষকরা পাট পচানো নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। অনেক চাষি পাট জাগ দেওয়ার জন্য চড়া দামে পুকুর ভাড়া নিচ্ছেন। তবে এ সংকট মোকাবিলায় কৃষি বিভাগ রিবন রেটিং পদ্ধতিতে পাট পচানোর পরামর্শ দিয়েছে।
চলনবিলের কৃষকরা জানিয়েছেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার পাটের ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু খরার কারণে চাষের শেষ ধাপে এসে বড় সমস্যার মুখে পড়েছেন তারা। নদীতেও নেই পর্যাপ্ত পানি, ফলে খাল, বিল, ডোবা, নালাগুলো একেবারে শুকিয়ে গেছে। রোদ ও খরতাপে পাট শুকিয়ে যাচ্ছে মাঠেই।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, রাজশাহী বিভাগের চার জেলায় এ বছর পাটের আবাদ হয়েছে ৫৩ হাজার ৮৩৫ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে রাজশাহীতে ১৭ হাজার ৩০৫, নওগাঁয় ৩ হাজার ৪১০, নাটোরে ৩ হাজার ৮৮ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২ হাজার ২৪০ হেক্টর জমিতে। অপরদিকে বগুড়া অঞ্চলের চার জেলায় চাষ হয়েছে ৬৯ হাজার ১৫ হেক্টর জমিতে—বগুড়ায় ৮ হাজার ৯৬০, জয়পুরহাটে ২ হাজার ৮৮৫, পাবনায় ৪২ হাজার ৫০০ ও সিরাজগঞ্জে ১৪ হাজার ৬৭০ হেক্টরে।
২০২০-২১ মৌসুমে রাজশাহী অঞ্চলে পাটের আবাদ ছিল ৪৬ হাজার ৯১৬ হেক্টরে। ছয় বছরে বেড়ে এখন তা দাঁড়িয়েছে ৫৩ হাজার ৮৩৫ হেক্টরে। তবে বগুড়া অঞ্চলে ২০২২-২৩ মৌসুমে চাষ হয়েছিল ৭৭ হাজার ৯৮ হেক্টরে, যা কমে এবার হয়েছে ৬৯ হাজার ১৫ হেক্টর জমিতে।
নাটোরের গুরুদাসপুর, বড়াইগ্রাম, সিংড়া, তাড়াশ, রায়গঞ্জসহ চলনবিল ঘেঁষা বিভিন্ন উপজেলার কৃষকরা জানান, খেতে পাট কাটার পর জল না থাকায় সেগুলো মাঠেই পড়ে আছে। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে পুকুরে পাট জাগ দিচ্ছেন। এজন্য গুনতে হচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা।
পাটচাষি আলমগীর হোসেন, সুজন আলী ও মনিরুল ইসলাম বলেন, সার, বীজ, সেচ, কীটনাশক ও শ্রমিক খরচ মিলিয়ে প্রতি বিঘায় প্রায় ১৬ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এখন পাট জাগ দেওয়ার জন্য পুকুর ভাড়া বাবদ দিতে হচ্ছে আড়াই হাজার টাকা করে।
আরেক কৃষক সোবহান মণ্ডল বলেন, পুকুরে জাগ দিলে পাটের রঙ ও গুণগত মান নষ্ট হয়। বিলের স্বচ্ছ ও প্রাকৃতিক পানিতে পাট পচালে সেটিই হয় সোনালি আঁশ। এখন কেউ কেউ কয়েক কিলোমিটার দূরের গ্রামে গিয়ে পাট জাগ দিচ্ছেন।
সাজেদুর রহমানসহ কয়েকজন পুকুর মালিক জানান, ডিজেলচালিত সেচপাম্প দিয়ে পুকুরে পানি ধরে রাখছেন তারা। কৃষকদের অনুরোধে পুকুর ভাড়া দিয়েছেন, তবে পানি ধরে রাখতে খরচ হওয়ায় ভাড়াও তুলনামূলক বেশি নিচ্ছেন। একটি পুকুরে গড়ে ৭টি পর্যন্ত পাট জাগ দেওয়া হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক ড. আজিজুর রহমান বলেন, বানের পানি না থাকায় পাট পচাতে কৃষকরা সমস্যায় পড়েছেন। আগের কিছু বিকল্প পদ্ধতি থাকলেও সেগুলো কৃষকদের জন্য খুব একটা কার্যকর হয়নি। এখন রিবন রেটিং পদ্ধতি এবং যেসব খাল-বিলে কিছুটা পানি আছে, সেসব জায়গাতেই নির্ভর করতে হচ্ছে।
৫৭০/১ স্টেডিয়াম রোডে মানিকগঞ্জ - ১৮০০থেকে প্রকাশিত। ফোন -০১৯৬৮৮০০৯৩০
ইপেপার