অভিযোগ বার্তা ডেস্কঃ
গুলশানে চাঁদা আনতে গিয়ে আটক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা আব্দুর রাজ্জাক বিন সুলাইমান রিয়াদের বাসা থেকে প্রায় তিন লাখ টাকা উদ্ধার করে পুলিশ বলছে, এই অর্থ সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আহমেদের বাসা থেকে ‘চাঁদা নেওয়া’ ১০ লাখ টাকার একটি অংশ।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর বাড্ডায় বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের বহিষ্কৃত নেতা রিয়াদের বাসার একটি কক্ষ থেকে টাকাগুলো উদ্ধারের কথা বলেন গুলশান থানার ওসি হাফিজুর রহমান।
তিনি বলেন, “বুধবার রাতে রিমাণ্ডের সময় সে স্বীকার করে বাড্ডাতে তার একটি ভাড়া করা বাসা রয়েছে। এরপর ভোরে সেখানে গিয়ে ২ লাখ ৯৮ হাজার টাকা উদ্ধার হয়।”
রিয়াদের সঙ্গে নাম আসা অপু গুলশান থানার মামলার দুই নম্বর আসামি বর্তমানে পলাতক।গুলশান থানার ওসি বলেন, তারা এদিন রিয়াদের বাড্ডার বাসার খোঁজ পান। পুলিশের হাতে গত শনিবার গ্রেপ্তারের আগে বাড্ডার তিন কক্ষের ওই ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে রিয়াদ থাকতেন অন্যান্য রুমে ৪/৫ জন করে থাকেন।রিয়াদের রুমটি ‘আধুনিক জিনিস পত্র’ দিয়ে সাজানো।
এর আগে বুধবার সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার (মিডিয়া) তালেবুর রহমান রিয়াদের আরেকটি বাসা থেকে সোয়া দুই কোটি টাকার চারটি চেক উদ্ধারের তথ্য দেন। এই চেকগুলো ‘ট্রেড জোন’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দেওয়া।
প্রাপকের নাম ও তারিখবিহীন এই চেকগুলোর দুইটি এক কোটি করে এবং একটি ১০ লাখ ও অপরটি ১৫ লাখ টাকার চেক।এই বাসাটি পশ্চিম রাজাবাজার এলাকার এবং ট্রেড জোন অফিসটি কলাবাগান এলাকায় অবস্থিত।
রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সময়কার কথা তুলে ধরে গুলশান থানার ওসি হাফিজুর বলেন, “রিয়াদ যেসব দামি পোশাক পরতো এ ধরনের পোশাক তার আগের বাসায় পাওয়া যায়নি। জিজ্ঞাসার এক পর্যায়ে সে বাড্ডার এ বাসার কথা স্বীকার করে।”
জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে তিনি বলেন, সাবেক সংসদের বাসা থেকে তারা যে ১০ লাখ টাকা ‘চাঁদা নিয়েছিল’ তার মধ্যে ৫ লাখ টাকা ভাগে পেয়েছিল রিয়াদ। এ কাজে তার মূল অংশীদার কাজী গৌরব অপুসহ অন্যরা বাকি টাকা নেয়।
সাত দিনের রিমান্ডের চার দিন শেষ হচ্ছে বৃহস্পতিবার। রিয়াদ ও রিমান্ডে থাকা অন্যদের কাছ থেকে আরও তথ্য বের করার চেষ্টার কথা তুলে ধরে ওসি হাফিজুর বলেন, রিয়াদের সাউথইস্ট ব্যাংকে একটি অ্যাকাউন্ট পাওয়া গেছে। এটির লেনদেনের খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।
তার ভাষ্য, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর রিয়াদ ও অপু মিলে একটি গ্রুপ করে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে চাঁদাবাজি করত। তারা জমি দখলের পাশাপাশি মব সন্ত্রাসের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করত। এটাই তাদের ‘পেশা হয়ে দাঁড়িয়েছিল’।
৫৭০/১ স্টেডিয়াম রোডে মানিকগঞ্জ - ১৮০০থেকে প্রকাশিত। ফোন -০১৯৬৮৮০০৯৩০
ইপেপার