লাকী আক্তার,ব্যুরো প্রধান,সিলেটঃ
সিলেটের পর্যটন কেন্দ্র জাফলং এখন আর কেবল পর্যটনের জন্য নয়, বরং প্রশাসনের এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তার ছত্রছায়ায় অপরাধ ও চোরাচালানের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। সীমান্তবর্তী এই জনপদে বালি লুটপাট, ভারতীয় পণ্যের মহোৎসব এবং আগ্নয়াস্ত্র ও মাদকের ভয়াবহ কারবার চলছে। এই সিন্ডিকেটের নেপথ্যে রয়েছেন স্থানীয় ৩নং পূর্ব জাফলং ইউপি সদস্য আব্দুল মন্নান (মন্নান মেম্বার) এবং তার সহযোগী, বিজিবির লাইনম্যান ডালিম।
অভিযোগ উঠেছে, এই সিন্ডিকেট ভারত থেকে অবৈধভাবে অস্ত্র নিয়ে আসছে এবং তা নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ক্যাডারদের কাছে সরবরাহ করছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গোয়াইনঘাট সদর থেকে জাফলং পর্যন্ত সড়কে আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতির চিত্র। দিনদুপুরেই পুলিশের চেকপোস্টের সামনে দিয়ে ডিআই ট্রাক ভর্তি ভারতীয় মহিষ এবং শত শত নাম্বারবিহীন মোটরসাইকেলে পাচার হচ্ছে জিরা, কসমেটিকস ও কম্বল। ১৫-১৭ বছরের কিশোরদের দিয়ে চালানো এসব মোটরসাইকেলে অন্তত ৫ বস্তা করে জিরা বহন করা হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সামনে দিয়েই এসব অবৈধ পণ্য নির্বিঘ্নে গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছে।
চালকরা জানান, প্রতি ট্রিপে এক হাজার টাকার বিনিময়ে তারা পণ্যগুলো রাধানগরের গুদামে পৌঁছে দেন। বাধা দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করলে চালকরা জানান, মন্নান মেম্বার ও ডালিম সবকিছু ম্যানেজ করেন; পুলিশ, বিজিবি ও ডিবি—কাউকেই আমাদের ভয় নেই।
বিজিবির লাইনম্যান’ ডালিম সাংবাদিকদের বলেন, “আপনারা ঝামেলা করলেন কেন, আমি আর মন্নান মেম্বার এই লাইন চালাই। টাকা-পয়সা দিয়ে সেটেল্ড করি।সংবাদ প্রকাশ করে তাদের কিছুই করা যাবে না।
অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, চোরাচালানের পণ্যগুলো গুচ্ছগ্রাম ও লালমাটি দিয়ে নামিয়ে জাফলং জিরোপয়েন্ট হয়ে রাধানগরে নেওয়া হয়। সেখান থেকে সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। সূত্রমতে, সংগ্রাম ক্যাম্পের পাশে পাবলিক টয়লেট ও ইবু মার্কেটের আশপাশের প্রায় ৫০টি গুদামে ভারতীয় চোরাই পণ্য মজুদ রয়েছে। এছাড়া রাধানগর কাফাউড়া, ইসলামপুর ও আলমনগর বাজারের গুদামগুলোতে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় কসমেটিকস, জিরা ও ওষুধ মজুদ করে রাখা হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, কসমেটিকস ও জিরার আড়ালে এই সিন্ডিকেট আগ্নয়াস্ত্রও পাচার করছে। সম্প্রতি র্যাব ও বিজিবি কর্তৃক উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের নেপথ্যেও মন্নান ও ডালিম জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। মন্নান ও ডালিম দুজনেই আওয়ামী লীগের পদধারী নেতা এবং পাচারকৃত অস্ত্রগুলো তারা নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীদের কাছে পাঠাচ্ছেন।
বল্লাঘাটের এক সময়ের সাধারণ দোকান কর্মচারী মন্নান স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক এক প্রভাবশালী মন্ত্রীর আশীর্বাদে রাতারাতি গডফাদারে পরিণত হন। তিনি জেলা ডিবি ও থানার ওসির লাইনম্যান পরিচয় দিয়ে লাখ লাখ টাকা চাঁদা তুলছেন। প্রতিবাদ করলে নেমে আসে নির্যাতন। সম্প্রতি পাথরটিলার ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন শুভকে পিটিয়ে ৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা লুট করে নেয় মন্নান বাহিনী। কিন্তু খুটির জোর বেশি হওয়ায় কোনো প্রতিকার পাননি ভুক্তভোগী।
সরকারের কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি ও জাতীয়
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাফলং সীমান্ত থেকে এই শক্তিশালী সিন্ডিকেটের মূলোৎপাটনে উচ্চ পর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
৫৭০/১ স্টেডিয়াম রোডে মানিকগঞ্জ - ১৮০০থেকে প্রকাশিত। ফোন -০১৯৬৮৮০০৯৩০
ইপেপার