নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিলেটের তামাবিল স্থলবন্দর, কাস্টমস ও পোর্ট কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট মহলের একটি অংশের অভিযোগ, বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়ম, আর্থিক অসঙ্গতি এবং স্বচ্ছতার অভাব বিরাজ করছে, যার ফলে সরকার যেমন রাজস্ব হারাচ্ছে, তেমনি ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
অভিযোগকারীদের দাবি, বন্দরে পণ্য ওজন নির্ধারণ, শুল্ক আদায় এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমে অনিয়মের সুযোগ রয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আধুনিক ডিজিটাল ব্যবস্থার অভাব এবং ম্যানুয়াল প্রক্রিয়ার কারণে সরকার উল্লেখযোগ্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তারা অভিযোগ করেন, কিছু ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা প্রদানের বিনিময়ে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে, যা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
এদিকে বন্দর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের একটি অংশ অভিযোগ করেছেন, লেবার হ্যান্ডলিং চার্জ বাবদ বিপুল পরিমাণ অর্থ দীর্ঘদিন ধরে নিষ্পত্তিহীন অবস্থায় রয়েছে। অভিযোগকারীদের মতে, এ খাতে প্রায় ৩৬ কোটি টাকা জমা রয়েছে এবং এ অর্থের সুষ্ঠু হিসাব ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এছাড়া ব্যবসায়ী সমিতির কিছু নেতার বিরুদ্ধেও ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় ব্যর্থতার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীরা দাবি করেন, বন্দর ব্যবস্থাপনা, শ্রমিক কল্যাণ তহবিল এবং আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে আরও বেশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, তামাবিল স্থলবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ও অটোমেশন ব্যবস্থার আওতায় আনা হলে অনেক সমস্যার সমাধান হতে পারে। তারা বন্দরে আধুনিক ডিজিটাল ওয়ে ব্রিজ, স্ক্যানিং ব্যবস্থা, সিসিটিভি নজরদারি, অনলাইন পেমেন্ট এবং পেপারলেস কাস্টমস ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছেন।
ব্যবসায়ীদের মতে, এসব প্রযুক্তি চালু হলে পণ্য ওজন নির্ধারণে স্বচ্ছতা বাড়বে, রাজস্ব ফাঁকি রোধ হবে, নগদ লেনদেন কমবে এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। একই সঙ্গে আমদানি ব্যয় কমে গেলে দেশের বাজারে পাথর, চুনাপাথর ও শিল্পকারখানার কাঁচামালের দামেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে তারা মনে করেন।
তবে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ, পোর্ট কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সমিতির আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলের দাবি, তামাবিল স্থলবন্দরের আর্থিক কার্যক্রম, লেবার হ্যান্ডলিং তহবিল, রাজস্ব ব্যবস্থাপনা এবং অভিযোগকৃত অনিয়মের বিষয়ে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত পরিচালনা করা হোক।
৫৭০/১ স্টেডিয়াম রোডে মানিকগঞ্জ - ১৮০০থেকে প্রকাশিত। ফোন -০১৯৬৮৮০০৯৩০
ইপেপার