মো নিশাদুল ইসলাম নিশাদ,ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধিঘঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার গোকর্ণঘাট এলাকায় একটি ব্যক্তিগত পুকুরে বিপুল পরিমাণ ক্ষতিকর সাকার মাছের সন্ধান মেলায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এবং পরিবেশবাদী সংগঠন ‘তরী বাংলাদেশ’-এর প্রতিনিধিদল।
গোকর্ণঘাট দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা মোহন মিয়ার পুকুরে এই নিষিদ্ধ মাছের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার পর স্থানীয়দের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধিতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পরিবেশকর্মীরা জানিয়েছেন, এই পুকুর থেকে বৃষ্টির পানি বা নালার মাধ্যমে সাকার মাছ তিতাস নদীতে ছড়িয়ে পড়ার চরম ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
যদি এই রাক্ষুসে মাছ একবার নদীতে প্রবেশ করে, তবে তিতাস নদীর অবস্থা ঢাকার বুড়িগঙ্গার মতো ভয়াবহ হবে এবং দেশীয় মাছের অস্তিত্ব চিরতরে বিলীন হয়ে যাবে। সরকারের পক্ষ থেকে এই মাছ চাষ, পরিবহন ও বিপণনে কড়া নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও লোকালয়ে এর বিশাল মজুত উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নদী ও প্রকৃতি সুরক্ষা সামাজিক আন্দোলন ‘তরী বাংলাদেশ’-এর আহ্বায়ক শামীম আহমেদ জানান, খবর পাওয়া মাত্রই তারা মৎস্য কর্মকর্তাকে নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন।
তিনি স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কারো পুকুরে যদি একটিও সাকার মাছ দেখা যায়, তবে দেরি না করে পুরো পুকুর সেচে সেই মাছ ধ্বংস করতে হবে, অন্যথায় দেশীয় কোনো মাছ চাষ করা সম্ভব হবে না।।
গোকর্ণঘাট এলাকার তরী বাংলাদেশের সদস্য সচিব মো. বাচ্চু মিয়া এবং মাদকমুক্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া চাই এর সভাপতি মাহফুজুর রহমান পুষ্প এই উদ্যোগের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই মাছের ভয়াবহতা সম্পর্কে জেনে তারা দ্রুত কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। পরিবেশ ও দেশীয় প্রজাতির মাছ রক্ষায় তারা যেকোনো মূল্যে এই মাছ নির্মূল করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
পুকুর মালিক মোহন মিয়া তার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, আজ পুকুরে জাল ফেলার পর তিনি অভাবনীয় এক পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন। মাত্র একবার জাল টেনেই প্রায় ২০০ কেজি সাকার মাছ পাওয়া গেছে এবং তার ধারণা পুকুরের নিচে আরও বিপুল পরিমাণ মাছ রয়েছে।
তিনি স্বীকার করেন যে, এই মাছটি মৎস্য চাষের জন্য কতটা ক্ষতিকর তা তার আগে জানা ছিল না।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী, তিনি এখন পুরো পুকুর সেচে একটি সাকার মাছও যেন অবশিষ্ট না থাকে সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন।ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জাকির হোসেন জানান, জনস্বার্থে এবং জেলে সম্প্রদায়ের জীবিকা রক্ষায় সাকার মাছ দেখামাত্রই মেরে ফেলতে হবে।কোনোভাবেই যেন এই মাছ নদী, নালা বা খাল-বিলে ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
একই সাথে তিনি স্থানীয়দের এই সচেতনতাকে সাধুবাদ জানান এবং পুরো জেলায় এমন সতর্কতা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।
৫৭০/১ স্টেডিয়াম রোডে মানিকগঞ্জ - ১৮০০থেকে প্রকাশিত। ফোন -০১৯৬৮৮০০৯৩০
ইপেপার