জেলা প্রতিনিধিঃ
দুঃসময়ে খোঁজ মেলেনি রাজপথে, সুসময়ে কোন্দল সৃষ্টির পায়তারা দীর্ঘ ১৭ বছরের আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনে বিএনপির রাজনৈতিক কার্যক্রম ছিল চরমভাবে সীমিত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার বাধা, অনুমতি না পাওয়া, মামলা ও হামলার মধ্যেও জেলার ত্যাগী নেতাকর্মীরা রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন।
অথচ সে সময় মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক ও সাবেক সভাপতি আফরোজা খানম রিতা ছিলেন রাজপথে নেতাকর্মীদের সাহসী ভরসার আশ্রয়স্হল। হাজারো মামলার চাপ এবং নির্যাতনের ভয় উপেক্ষা করে তিনি নেতাকর্মীদের একত্রিত করেছেন, জনগণের ন্যায্যতা ও রাষ্ট্রযন্ত্রের দুর্নীতি-অনিয়মের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছেন।
অন্যদিকে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আতাউর রহমান আতা দলের দুঃসময়ে আওয়ামী সরকারের চোখে ছিলেন মধ্যপন্থী। একাধিক মামলায় কারাবরণ করলেও দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে তার সক্রিয় উপস্থিতি ছিল সীমিত। একপর্যায়ে তিনি দল ত্যাগ করার সিদ্ধান্তে আসেন এবং প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক পার্টির (পিডিপি) সাথে যুক্ত হন। দলের দুঃসময়ে তার এমন কর্মকাণ্ডে নেতাকর্মীরা হন বিব্রত ক্ষতি হয় স্থানীয় বিএনপি'র।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শাসনামলে ২০০৭ সালে বিএনপি'র জ্যেষ্ঠ নেতা ফেরদৌস আহমেদ কোরেশি বিএনপি থেকে বের হয়ে প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক পার্টি (পিডিপি) নামের রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করে। অনেক ক্ষেত্রে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা থাকায় সে সময় দলটি 'কিংস পার্টি' নামে পরিচিতি লাভ করে। ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু করে দলটি। সেই দলে এবং কর্মকান্ডে প্রত্যক্ষভাবে জড়িয়ে পড়েন আতাউর রহমান আতা। উদ্দেশ্য ছিল কিংস পার্টির হয়ে মানিকগঞ্জ থেকে সংসদ নির্বাচন করা। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটি ২১ জন প্রার্থী দেন। সেখানে এমপি নির্বাচনের টিকিট না পেরে কিংস পার্টি থেকে পেছনে ফিরতে শুরু করেন আতাউর রহমান আতা।
পুনরায় বিএনপি'তে ভিড়ে নিষ্ক্রিয় ভূমিকায় অবস্থান নেন এই নেতা। তবে বর্তমান রাজনৈতিক সুদিনে তিনি নতুন করে সক্রিয় হয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় নেমেছেন। কিন্তু প্রচারণাকালে দলের আহবায়ককে ইঙ্গিত করে কিছু বক্তব্য রাখেন, যা নেতাকর্মীদের চোখে কুরুচিপূর্ণ ও বিভাজন সৃষ্টিকারী হিসেবে ধরা পড়েছে। সামাজিক মাধ্যমে নেতাকর্মীরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। তাদের অভিযোগ, দুঃসময়ে যিনি রাজপথে ছিলেন না, তিনি এখন সুসময়ে এসে দলের ঐক্যে ফাটল ধরানোর চেষ্টা করছেন।
আফরোজা খানম রিতার দীর্ঘ রাজনৈতিক ত্যাগ ও দুর্দিনে নেতাকর্মীদের পাশে থাকার ইতিহাস তুলে ধরে অনেকে লিখেছেন - দলীয় ঐক্য নষ্টের এই প্রচেষ্টা বিএনপির আন্দোলনকে দুর্বল করতে পারে।
জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আ. তা. ম. জহির আলম খান লদি সতর্ক করে বলেছেন, এমন মন্তব্য দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে এবং বিভক্তি তৈরি করে ক্ষমতাসীনদের সুযোগ করে দিতে পারে।
দলের নেতাকর্মীদের মতে, দুঃসময়ে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই না করলে এবং সুসময়ে ব্যক্তিগত স্বার্থে কোন্দল সৃষ্টি করলে বিএনপির ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সুএ- এডুকেশন টাইম
৫৭০/১ স্টেডিয়াম রোডে মানিকগঞ্জ - ১৮০০থেকে প্রকাশিত। ফোন -০১৯৬৮৮০০৯৩০
ইপেপার