নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া উপজেলার বরাইদ ইউনিয়ন এখন মাটি খেকোদের দখলে। প্রতিদিন রাত-দিন সমানতালে চলছে ধলেশ্বরী নদীর মাটি কাটার মহোৎসব। সাভার,জালসুকাসহ বরাইদ ইউনিয়নের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে অবৈধ ড্রেজার এবং মাহিন্দ্র ট্রাক্টর ব্যবহার করে নদীর মাটি লুটে নিচ্ছে একটি শক্তিশালী চক্র।
অনুসন্ধানে এবং স্থানীয়দের অভিযোগে জানা গেছে, এই মাটি বিক্রির বিশাল বাণিজ্যের পেছনে কলকাঠি নাড়ছেন ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান মেম্বার রমজান। অভিযোগ উঠেছে,বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাব খাটিয়ে তিনি একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন,যারা প্রশাসনের তোয়াক্কা না করেই নদী থেকে বিপুল পরিমাণ মাটি তুলে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
ভৌগোলিক অবস্থানের সুযোগ নিচ্ছে এই মাটি খেকোরা । এলাকাটি সাটুরিয়া,দৌলতপুর এবং নাগরপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী হওয়ায় এক উপজেলার প্রশাসন অভিযান চালাতে চাইলে তারা সীমানা জটিলতার ফায়দা নেয়। ফলে কোনো বাধাই মানছে না তারা।মাটি লুটের ভয়াবহ পরিণাম নিয়ে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন চরাঞ্চলের মানুষ। বর্ষা মৌসুমে নদী ভাঙন এই এলাকার নিত্যদিনের সঙ্গী।
এভাবে অপরিকল্পিতভাবে মাটি কাটার ফলে আগামী বর্ষায় নদী ভাঙন আরও ভয়াবহ রূপ নেওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো,যে স্থান থেকে মাটি কাটা হচ্ছে, তার ঠিক পাশেই রয়েছে একটি মসজিদ এবং একটি বিদ্যালয়। নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে এই ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দুটি।
স্থানীয় বাসিন্দারা চরম ক্ষুব্ধ হলেও প্রভাবশালীদের ভয়ে সরাসরি কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না। তাদের দাবি,এভাবে মাটি লুট চলতে থাকলে ভিটেমাটি হারিয়ে পথে বসতে হবে শত শত পরিবারকে।
এলাকাবাসীর একটাই চাওয়া—প্রশাসন যেন অতি দ্রুত এই অবৈধ মাটি কাটা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং ধলেশ্বরী নদী ও নদী তীরবর্তী জনপদকে রক্ষা করে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
৫৭০/১ স্টেডিয়াম রোডে মানিকগঞ্জ - ১৮০০থেকে প্রকাশিত। ফোন -০১৯৬৮৮০০৯৩০
ইপেপার