বিনোদন ডেস্কঃ
ফাওয়াদ খান এবং মাহীরা খান—এই দুটি নাম উচ্চারণ করলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে ‘হামসাফার’ নাটকের সেই আশার এবং খিরদকে। তাঁরা কেবল পাকিস্তানের জনপ্রিয় তারকা নন, বরং পুরো দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং প্রভাবশালী অন-স্ক্রিন জুটি। তাঁদের পর্দার রসায়ন দর্শকদের মাঝে এমন এক উন্মাদনা তৈরি করেছে যা গত এক দশকেও ম্লান হয়নি।
অভিনয় দক্ষতা ও আভিজাত্য ফাওয়াদ খানের অভিনয়ের মূল শক্তি হলো তাঁর গভীরতা এবং পরিমিত বোধ। তিনি খুব বেশি চিৎকার বা অঙ্গভঙ্গি না করেও কেবল চোখের চাহনি আর শান্ত সংলাপ প্রক্ষেপণ দিয়ে যেকোনো দৃশ্যকে জীবন্ত করে তুলতে পারেন। তাঁর মধ্যে এক ধরণের রাজকীয় আভিজাত্য কাজ করে। অন্যদিকে, মাহীরা খান তাঁর স্নিগ্ধতা এবং সাবলীল অভিনয়ের জন্য পরিচিত। তিনি পর্দার সাধারণ ‘গার্ল নেক্সট ডোর’ ইমেজ থেকে শুরু করে জটিল মনস্তাত্ত্বিক চরিত্রেও সমান পারদর্শী। ‘হামসাফার’ নাটকে তাঁর সেই আর্তনাদ আর অসহায়ত্ব আজও দর্শকদের চোখে জল এনে দেয়।
গ্লোবাল জনপ্রিয়তা ও রসায়ন এই জুটির জনপ্রিয়তা কেবল পাকিস্তান বা ভারতের সীমানায় আটকে নেই, বরং সারাবিশ্বের উর্দু ও বাংলাভাষী দর্শকদের কাছে তাঁরা আইকন। তাঁদের রসায়নের জাদুই এমন যে, স্ক্রিনে যখন তাঁরা পাশাপাশি দাঁড়ান, তখন সংলাপের চেয়ে তাঁদের নীরবতাই যেন বেশি কথা বলে। ‘দ্য লিজেন্ড অফ মওলা জাট’ সিনেমায় তাঁদের ফের একসাথে দেখা যাওয়াটা ছিল ভক্তদের জন্য এক বড় উপহার। ফাওয়াদ এবং মাহীরা দুজনেই বলিউডে কাজ করেছেন এবং সেখানেও তাঁদের মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন। ফাওয়াদ ‘খুবসুরত’ দিয়ে জয় করেছেন লক্ষ হৃদয়, আর মাহীরা শাহরুখ খানের বিপরীতে ‘রইস’ ছবিতে দেখিয়েছেন তাঁর চমক।
ফাওয়াদ এবং মাহীরা কেবল অভিনেতা নন, তাঁরা স্টাইল এবং আভিজাত্যের প্রতীক। তাঁদের অভিনয়ের প্রতি একাগ্রতা এবং পর্দার বাইরের মার্জিত ব্যক্তিত্ব তাঁদের বর্তমান প্রজন্মের কাছে আদর্শ করে তুলেছে। দক্ষিণ এশীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এই জুটি এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে চিরকাল অমর হয়ে থাকবে।
৫৭০/১ স্টেডিয়াম রোডে মানিকগঞ্জ - ১৮০০থেকে প্রকাশিত। ফোন -০১৯৬৮৮০০৯৩০
ইপেপার