নিউজ ডেস্কঃ
বাংলাদেশে এই মুহূর্তে ইলিশ ধরা, কেনাবেচা নিষিদ্ধ। তবে ভারতে এ সময়ে এ ধরনের কোনো নিষেধাজ্ঞা কার্যকর না থাকায় ভারতীয় জেলেরা দেদারসে ইলিশ ধরছেন। তাদের জালে এতটাই ইলিশ ধরা পড়ছে যে, সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় কোথাও কোথাও ৫০ টাকায় এক কেজি ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে।
বাংলাদেশের নদ-নদীতে ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে ২২ দিন। এই সুযোগে ঘূর্ণিঝড় ‘ডানা’র ঝুঁকি মাথায় নিয়েই গঙ্গায় জাল ফেলছেন ভারতের জেলেরা। অবশ্য ছোট ইলিশের পরিমাণই বেশি। তবে ৭০০-৮০০ গ্রামের ইলিশও পাওয়া যাচ্ছে।
ডিম পাড়ার সময় বলে অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সময়ে ইলিশ সাগরের নোনা পানি ছেড়ে পদ্মা, গঙ্গার মিঠা পানিতে চলে আসে। বাংলাদেশে এ সময় ইলিশ ধরা বন্ধ থাকায় গঙ্গাতেও ইলিশের আনাগোনা বেড়ে যায়।
এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ওঠার খবর পেয়ে ফারাক্কা বাঁধের উজানে নিমতিতা, ধুলিয়ান, হাজারপুর, অর্জুনপুর লাগোয়া সমস্ত ঘাটে বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল থেকেই জেলেরা ঝাপিয়ে পড়েন। ইলিশের পরিমাণ দেখে তাদের মুখে হাসি ফুটেছে।
সামনেই কালীপুজা, ভাইফোঁটার মতো উৎসব থাকায় এ সময়ে কলকাতাতে ইলিশের বেশ কদর থাকে। সেই উৎসবের সময় একেবারে পানির দরে পাওয়া যাচ্ছে ইলিশ মাছ। জানা যাচ্চে, ৫০ টাকা কেজি দরেও পাওয়া যাচ্ছে সে ইলিশ। এগুলোর সাইজ অবশ্য একেবারেই ছোট, কেজিতে ১২-১৫টা উঠছে। কিন্তু এ দামে ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে এতেই বেশ খুঁশি ক্রেতারা। সাইজে বড়গুলোর দাম অবশ্য কিছুটা বেশি।
বাসুদেবপুরের মৎস্যজীবী গৌতম হালদার জানান, প্রায় পাঁচ বছর পর আবারও গঙ্গায় এত ইলিশ ধরা পড়েছে। বেশিরভাগই ছোট সাইজের হলেও কিছু কিছু বড় সাইজেরও আছে। সাধারণ ক্রেতারা খুব কম দামে ইলিশ কিনতে পারছে।
পশ্চিমবঙ্গ মৎস্য দপ্তর এ বিষয়ে জানিয়েছে, অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সময়টা আসলে ইলিশের প্রজননের সময়। এ সময়ে ইলিশ ধরা বেআইনি। সে কারণেই এখন বাংলাদেশে ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ। একই নিষেধাজ্ঞা পশ্চিমবঙ্গেও আছে। তবে বাংলাদেশে যেভাবে কড়াকাড়ি করা হয়, পশ্চিমবঙ্গে সেটা হয় না বললেই চলে। আর তাই বাজারে ইলিশের এত সরবরাহ।
আনন্দবাজার পত্রিকা অবলম্বনে
৫৭০/১ স্টেডিয়াম রোডে মানিকগঞ্জ - ১৮০০থেকে প্রকাশিত। ফোন -০১৯৬৮৮০০৯৩০
ইপেপার