মোঃ নিশাদুল ইসলাম নিশাদ,ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ
গতকাল বুধবার ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পৌর শহরের টেংকের পাড় পুকুরের পশ্চিম পাড়ে নির্মিত যথাযথ অনুমোদন ও ছাড়পত্র হীন ভবন 'ফ্রেন্ডস টাওয়ার' এর লিফট ছিড়ে পড়ে রোয়া রহমান নামের ৮ বছরের এক শিশু আহত হয়েছে মারাত্মক ভাবে। শিশুর পিতা মুখলেস রহমান জানান যে হঠাৎ লিফট ছিড়ে পড়ায় লিফটের ভিতরে থাকা শিশু মাথা,নাক ও চোখে মারাত্মক আঘাত পায়।তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ঢাকায় নেয়া হবে। পুরো ভবনের বাসিন্দাদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক।
অভিযুক্ত এই ভবনের ফ্লাট মালিক তথা বাসিন্দারা জানান এই বিল্ডিং তৈরিকালীন সময় থেকেই নানান অনিয়মের সাথে জড়িত। নির্মাণ কাজ দীর্ঘায়িত করে ফ্ল্যাট মালিকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়,নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার সহ ঠিক সময়ে ফ্ল্যাট না বুঝিয়ে দিয়ে টালবাহানার ঘটনাও ঘটেছে অতীতে।বর্তমান সময়েও নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে বাস করছিলো ভবনের বাসিন্দারা। ভবনের ৮ তলার বাসিন্দা ডা.তৌহিদ চৌধুরী জানান তাদের এসকল নানান ভোগান্তির কথা।তিনি আরো জানান যে সম্পূর্ণ সহ অতিরিক্ত মূল্য পরিশোধের পর এতো সময় পেরিয়ে গেলেও উনার গ্যারেজটি এখনো তাকে বুঝিয়ে দেয়নি নির্মাতা সিন্ডিকেট।
জানা যায় এই ভবন নির্মাণের সাথে জড়িত ছিলো দশ জনের একটি সিন্ডিকেট যারা নেতৃত্বে ছিলো যুবলীগ নেতা হাজী আবু কাউসার, এমরান হোসেন সহ কয়েকজন। পরবর্তীতে হাজী আবু কাউসার শেয়ার বিক্রি করে চলে গেলে ভবন নির্মাণে নেতৃত্ব দেয় এমরান হোসেন নামক এক যুবলীগ নেতা যিনি নিজেকে ডেভেলপার ও হাসপাতাল ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন। সবাই তৎকালীন সময়ে আওয়ামীলীগ ও যুবলীগ এর রাজনীতির সাথে পদ নিয়ে জড়িত থাকায় ভবন নির্মাণে কোনো নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করে এবং গ্রাহকদের কাছে ফ্লাট বিক্রি শুরু করে। এমনকি অভিযোগ আছে যে এই দশ তলা ভবনের জায়গাটি ছিলো মূলত পুকুর। পুকুর ভরাট করে যথাযথ অনুমোদন না নিয়ে তৈরি করা হয় এই ঝুঁকিপূর্ণ ভবন।
পৌর এলাকায় বিল্ডিং কোড না মেনে কোনো নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে তৈরি করা এই ভবন রয়েছে চরম অগ্নি দুর্ঘটনা ঝুঁকিতেও।