নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
উজানে অতিভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাঁচ জেলায় বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।ইতোমধ্যে সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও নেত্রকোনা জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ, তলিয়ে গেছে শত শত হেক্টর বোরো ফসল।
বিপৎসীমার ওপরে ৪ নদী বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, সুরমা, কুশিয়ারা, মনু ও সোমেশ্বরীসহ প্রধান নদীগুলোর পানি দ্রুত বাড়ছে। বর্তমানে চারটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বিশেষ করে মৌলভীবাজারের জুড়ী পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। এছাড়া নেত্রকোনার জারিয়াঝাঞ্জাইল পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।
আকস্মিক এই বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন হাওরাঞ্চলের কৃষকরা। বোরো ধান কাটার এই মৌসুমে আকস্মিক ঢলে আধা-পাকা ধান তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে হাহাকার দেখা দিয়েছে। মৌলভীবাজারের কুলাউড়া ও জুড়ী উপজেলায় অন্তত পাঁচ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। অনেক স্থানে গ্রামীণ রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী ১ মে পর্যন্ত সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও নেত্রকোনা অঞ্চলে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এর ফলে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় এই জেলাগুলোর বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ ও উদ্ধারের জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
৫৭০/১ স্টেডিয়াম রোডে মানিকগঞ্জ - ১৮০০থেকে প্রকাশিত। ফোন -০১৯৬৮৮০০৯৩০
ইপেপার