মোঃ ইমরুল আহসান ময়মনসিংহ থেকেঃ
ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে বিভাগীয় উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভা আজ সোমবার বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ শাম্মী, এনডিসি।
সভার শুরুতে দপ্তরগুলোর দাপ্তরিক কাজে ডি-নথির ব্যবহার ও ওয়েবপোর্টাল হালনাগাদকরণ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। দপ্তরগুলোর মধ্যে শতকরা কত ভাগ ডি-নথির আওতায় এসেছে সেটা পরবর্তী সভায় উত্থাপনের জন্য বলা হয়। কোনো দপ্তর যদি এখনো ডি-নথিতে না এসে থাকে, দ্রুত আসার জন্য বলা হয়। এ ব্যাপারে আইসিটি শাখায় যোগাযোগের জন্য বলা হয়।
সভায় ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের প্রতিনিধি জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশা নিধনসহ পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে টিম আকারে কাজ করছে সিটি কর্পোরেশন। মশা নিধনে কিছু ভলান্টিয়ারও কাজ করছে। যানজট নিরসন, ফুটপাত দখলমুক্ত, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, টিসিবি কার্যক্রম ইত্যাদি চলমান রয়েছে। প্রেক্ষিতে, নিজ নিজ দপ্তরের আঙ্গিনা পরিষ্কার রাখতে প্রতি সপ্তাহে শনিবার পরিচ্ছন্নতা কাজ করার কথা উল্লেখ করা হয়।
পুলিশ বিভাগের প্রতিনিধি জানান, সমস্যার জায়গাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বাত্মকভাবে কাজ করছে। বালক বা বালিকা শিশু যেন নির্যাতিত না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর রাখার কথা উল্লেখ করা হয় পুলিশ বিভাগকে।
হামের টিকা প্রয়োগের ব্যাপারে অভিভাবকদের আরো সচেতন ও উদ্বুদ্ধকরণে কাজ করছে। প্রতিদিন টিকাদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা জানান। পাশাপাশি শিশুদেরকে ভিটামিন এ খাওয়ানোর জন্য সর্বসাধারণকে সচেতন করে গড়ে তুলতে তিনি আহ্বান জানান।
সভায় জেলার সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও রক্ষায় সরকারি বিল্ডিংগুলোকে আরো মেরামত ও রং করার বিষয়টি গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা বলেন, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উপর অবৈধভাবে স্থাপিত দোকানপাট উচ্ছেদের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। রাস্তায় স্পিডবেকারের বিষয়টিও আমরা বিশেষভাবে নজর দিচ্ছি।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রতিনিধি জানান, ১৩টি প্রকল্পের নির্মানাধীন কাজ চলমান আছে। নির্মাণাধীন কাজের গুণগতমান বজায় রাখতে তারা সর্বোচ্চ সচেষ্ট।
বেশিরভাগ প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে এমন তথ্য দেন স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তা। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তা নলকূপ স্থাপনের কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করেন সভাকে। মাত্রাতিরিক্ত আয়রন ও আর্সেনিক রোধে কাজ করছে এ দপ্তর।
অচিরেই জামালপুরে কৃষক কার্ড বিতরণ উদ্বোধন হবে বলে এমনটাই উল্লেখ করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি। কৃষকের জমিতে পানি সেচের জন্য আরো কিছু জায়গায় সেচ পাম্প বসানো হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সভাপতির বক্তৃতায় বিভাগীয় কমিশনার বলেন, সামনে ঈদুল আযহায় প্রাপ্ত চামড়া শিল্পের প্রতি আমাদের বিশেষভাবে নজর দেওয়া দরকার। চামড়া প্রক্রিয়াকরণে মনোযোগ দেওয়া, সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা ও বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করে অনেক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব। এ শিল্প অনেক মূল্যবান। তাই প্রশিক্ষণ প্রদানপূর্বক পেশাদার জনবল গড়ে তোলা প্রয়োজন। সেজন্য প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার প্রতি বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেন বিভাগীয় কমিশনার। সকল দপ্তরের চলমান কার্যক্রম সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে নির্দেশ প্রদান করেন তিনি।
সভায় বিভাগীয় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান বা তার প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।
৫৭০/১ স্টেডিয়াম রোডে মানিকগঞ্জ - ১৮০০থেকে প্রকাশিত। ফোন -০১৯৬৮৮০০৯৩০
ইপেপার