মোঃ নিশাদুল ইসলাম নিশাদ,ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সীমান্তঘেঁষা আখাউড়া অঞ্চলে গড়ে ওঠা একটি শক্তিশালী মাদক সিন্ডিকেট এবং এর হোতা ‘শশী’ নামক এক তরুণীর প্রকাশ্যে মাদক সেবন ও প্রচারের ঘটনায় জেলাজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেন্সিডিলের মতো ভয়াবহ মাদককে প্রমোট করার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ফুঁসে উঠেছে স্থানীয় সচেতন মহল ও মাদকবিরোধী সংগঠনগুলো।
বিশেষ অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিতর্কিত এই তরুণী শশী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দা। তিনি নিজেকে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ‘পুবের মেয়ে’ হিসেবে পরিচয় দেন।স্থানীয় আঞ্চলিক ভাষায় সীমান্তবর্তী আখাউড়াকে ‘পুবে’ বা ‘ফুব্বা’ বলা হয়।
ভারত সীমান্ত সংলগ্ন এই এলাকাটি চোরাচালানের অন্যতম রুট হিসেবে পরিচিত, যেখান থেকে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকার অবৈধ মাদক দেশে অনুপ্রবেশ করছে।
অভিযোগ উঠেছে, শশী কেবল মাদক সেবনই করছেন না, বরং ফেসবুকের মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে এই বিষাক্ত সংস্কৃতিকে তরুণ প্রজন্মের কাছে ‘গ্ল্যামারাইজড’ বা আকর্ষণীয় করে তুলছেন যা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ বলে জানান একজন বিজ্ঞ আইনজীবী।
এই ঘটনার প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছে জেলার দুটি প্রভাবশালী সামাজিক সংগঠন—ব্রাহ্মণবাড়িয়া হেল্প লাইন এবং ঐক্যবদ্ধ সদর ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদকের এই প্রকাশ্য প্রচার তরুণ মেধাবী সমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। তারা অচিরেই মানববন্ধন এবং বৃহৎ আন্দোলনের ডাক দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
সামাজিক ও মাদকবিরোধী ব্রাহ্মণবাড়িয়া হেল্পলাইন থেকে কঠোর থেকে কঠোর আন্দোলন এর হুশিয়ারী দেওয়া হয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে খুব শিগগিরই একটি মানববন্ধন করতে যাচ্ছেন
এবং এই মাদকের বেপারে কোনোও ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়। এই সংগঠন এর পক্ষ থেকে অচিরেই প্রশাসন এর কাছে অভিযোগ করতে যাচ্ছে। আন্দোলনের পরবর্তীতে তারা বিশাল এক আন্দোলন এর কথা ভাবছে যদি প্রশাসন তার বিরুদ্ধে কোনোও আইনী বেবস্থা না নেয়।
এসময় ঐক্যবদ্ধ সদর ব্রাহ্মণবাড়িয়া-এর মুখপাত্র আরিফ বিল্লাহ আজিজি এ বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন-"আমাদের এই পবিত্র মাটিকে আমরা মাদকের স্বর্গরাজ্য হতে দেবা না। যারা আড়ালে থেকে বা প্রকাশ্যে মাদককে প্রমোট করছে, তারা সমাজের শত্রু। আমরা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি এই সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে। অন্যথায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাধারণ জনতাকে নিয়ে আমরা কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব।"
মাদক প্রমোট করলে আইনের যে ধারায় শাস্তি হতে পারে
আইনজীবীদের মতে, মাদক সেবন, বহন বা এর প্রচারণা চালানো বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে কঠোর দণ্ডনীয় অপরাধ। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এবং পেনাল কোড (দণ্ডবিধি), ১৮৬০ অনুযায়ী অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নিম্নলিখিত ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে - মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন (২০১৮): এই আইনের ৩৬(১) সারণি অনুযায়ী, ফেন্সিডিল বা নিষিদ্ধ মাদক বহন, মজুত ও বিপণনের জন্য অপরাধের মাত্রা ভেদে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে।
এছাড়া ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মাদকের প্রচার করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আওতায়ও পড়ে।পেনাল কোড ধারা ২৬৮ ও ২৯০: জনবিরক্তি ও সমাজের ক্ষতিসাধন করার অপরাধে শাস্তির বিধান রয়েছে।
পেনাল কোড ধারা ১০৯ (প্ররোচনা) যদি কেউ অন্যকে মাদক সেবনে প্ররোচিত বা উৎসাহিত করে (যেমনটি শশী ভিডিওর মাধ্যমে করছেন), তবে তিনি মূল অপরাধীর সমান বা আনুপাতিক হারে দণ্ডিত হবেন।
৫৭০/১ স্টেডিয়াম রোডে মানিকগঞ্জ - ১৮০০থেকে প্রকাশিত। ফোন -০১৯৬৮৮০০৯৩০
ইপেপার