মানিকগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
সাম্প্রতিক সময়ে মানিকগঞ্জ জেলায় কিশোর গ্যাং এবং মাদক কারবারিদের দৌরাত্ম্য আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে শহর ও এর আশেপাশের এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক সেবন, ছিনতাই, ইভটিজিংসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মানিকগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে স্কুল-কলেজের আশেপাশে এবং পাড়া-মহল্লার অলিগলিতে একাধিক কিশোর গ্যাং সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এসব গ্যাংয়ের সদস্যরা নিজেদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রায়শই সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছে। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মারামারি, ধারালো অস্ত্রের ব্যবহার এবং এমনকি গুরুতর জখমের ঘটনাও ঘটছে। এলাকার উঠতি বয়সের তরুণদের একটি অংশ এসব গ্যাংয়ের প্রভাবে মাদক সেবন ও অন্যান্য অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে, যা তাদের ভবিষ্যৎ জীবনকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। অভিভাবকদের মধ্যেও সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে এক ধরনের ভীতি কাজ করছে।
মাদকের সহজলভ্যতা ও কারবারিদের সক্রিয়তা
কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে মাদকের সহজলভ্যতাকে দায়ী করছেন অনেকে। শহর এবং গ্রামের বিভিন্ন প্রান্তে অবাধে মাদক বেচাকেনা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিলের মতো মাদকদ্রব্য তরুণ প্রজন্মের হাতে সহজেই চলে আসছে। মাদক কারবারিরা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে তাদের অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে করে শুধু কিশোর গ্যাং নয়, সমাজের অন্যান্য স্তরের মানুষও মাদকের করাল গ্রাসে পতিত হচ্ছে। মাদক সেবনের অর্থ জোগাতে গিয়ে অনেকে চুরি, ছিনতাইয়ের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে।
এ পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ মানুষ। যদিও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে, কিন্তু তারপরও মাদক কারবারিদের এবং কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। অনেকে মনে করছেন, মাদক সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা এবং কিশোর গ্যাংগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
৫৭০/১ স্টেডিয়াম রোডে মানিকগঞ্জ - ১৮০০থেকে প্রকাশিত। ফোন -০১৯৬৮৮০০৯৩০
ইপেপার