মেলান্দহ প্রতিনিধিঃ
অটোরিক্সা চালক নায়েব আলী, প্রতিদিনের ন্যায় গত ২১/০৬/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ, ভোর ৪ টার সময় কমিউটার ট্রেনের যাত্রী স্টেশনে পৌছে দেওয়ার জন্য বাড়ী হতে বের হয়ে যায়। অন্যান্য দিন বাড়ীতে ফিরলেও গত ২১ তারিখে বাড়ীতে ফিরে আসেনি। ফলে তার ছেলে মোঃ মামুন মেলান্দহ থানায় একটি নিখোঁজ জিডি করে। পাশাপাশি তার নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি ফেইসবুকে প্রচার হয়। ফেইসবুকের পোস্ট দেখে জনৈক ব্যক্তি বাদীর চাচা হাফিজুর রহমানকে জানায় যে, ইসলামপুর থানাধীন চরপুটিমারী ইউনিয়নের বেনুয়ারচর বাজার হতে অনুমান ০১ কিলোমিটার দূরে নির্জন ধান ক্ষেতে একটি লাগেজের ভিতরে অজ্ঞাতানামা পুরুষ (৩৫) এর লাশ পাওয়া গিয়েছে। বাদীর জ্যাঠা, চাচারা ইসলামপুর থানায় গিয়ে বাদীর বাবার লাশ বলে সনাক্ত করে। পরবর্তীতে ভিকটিমের ছেলে মোঃ মামুন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে ইসলামপুর থানার মামলা নং—২৫, তারিখ—২৪/০৬/২০২৬ খ্রিঃ, ধারা—৩০২/২০১/৩৭৯ পেনাল কোড দায়ের করেন।
মামলাটি পিবিআই, হেডকোয়ার্টার্স এর মাধ্যমে পিবিআই, জামালপুর জেলা স্ব—উদ্যোগে গ্রহণ করে এবং মামলার তদন্তভার এসআই (নিঃ)/ফয়জুর রহমান এর উপর অর্পণ করা হয়।
পিবিআই প্রধান মোঃ মোস্তফা কামাল, অ্যাডিশনাল আইজিপি, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), হেডকোয়ার্টার্স, ঢাকা এর সঠিক তত্ত্বাবধান ও দিক নির্দেশনায় পিবিআই, জামালপুর ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত, পিপিএম এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে মৃতদেহ সংক্রান্তে সংবাদ প্রাপ্তির পর হতেই পিবিআই, জামালপুর ইউনিট মামলার রহস্য উদঘাটনের লক্ষ্যে ছায়াতদন্ত শুরু করে।
পিবিআই এর তদন্তকারী অফিসার তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় অত্র মামলার আসামী মোঃ নাহিদুল ইসলাম (৩০),কে ২৪/০৬/২০২৬ রাত ০৩.৩০ ঘটিকার সময় মেলান্দহ থানাধীন চাকদহ সর্দারবাড়ী সাকিনস্থ তার নিজ বাড়ী হতে গ্রেফতার করেন এবং আসামী মোঃ নাহিদুল ইসলামের দেওয়া তথ্য মোতাবেক ডিসিস্টের চোরাইকৃত অটোরিক্সার বিভিন্ন মালামাল উদ্ধারের জন্য অভিযান পরিচালনা চোরাই মালামাল ক্রেতা মোঃ সোলাইমান কবির (৫০), মোঃ শফিকুল ইসলাম (৪১), মোঃ আব্দুল কাদের (৫৬), মোঃ রাসেল হোসেন (৩৪)সহ এবং চোরাইকৃত মালামাল পরিবহনে সহায়তাকারী সাগর পাশা (২৬)দের গ্রেফতার করা হয়।
তদন্তে জানা যায় যে, জরুরীভাবে আসামী মোঃ নাহিদুল ইসলামের মাত্র ১০,০০০/— (দশ হাজার) টাকার প্রয়োজন হলে সেই টাকা জোগাড়ের জন্য অটোরিক্সা চুরির পরিকল্পনা থেকে সে তার সহযোগীদের নিয়ে এই নৃশংস হত্যাকান্ডটি সংঘটিত করে। আসামীকে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করে মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত ডিসিস্টকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত জিআই তার ও অত্র মামলার চোরাইকৃত মিসুক অটোরিক্সার ০৪টি ব্যাটারী, ০১টি কন্ট্রোলার, ০৩টি চাকা, মোটর ডিফেন্সিয়াল, ০২টি সকেট বাম্পার, অটোরিক্সার সামনের গ্লাসসহ লোহার বডির বিভিন্ন কাটা অংশ উদ্ধার পূর্বক বিধি মোতাবেক জব্দ করা হয়। চোরাইকৃত মিসুক অটোরিক্সার বিভিন্ন অংশ বিশেষ চোরাই মালামাল জানা সত্বেও অভ্যাসগতভাবে চোরাই মালামাল ক্রয়ের সাথে জড়িত থাকায় মোঃ সোলাইমান কবির (৫০), মোঃ শফিকুল ইসলাম (৪১), মোঃ আব্দুল কাদের (৫৬), মোঃ রাসেল হোসেন (৩৪)সহ উক্ত চোরাইকৃত মালামাল পরিবহনে সহয়তাকারী সাগর পাশা (২৬)দের গ্রেফতার করা হয়।
অতঃপর আসামী মোঃ নাহিদুল ইসলামকে আদালতে প্রেরণ করলে উক্ত আসামী স্বেচ্ছায় সিআরপিসির ১৬৪ ধারা মোতাবেক দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।
মামলাটির তদন্ত চলমান রয়েছে।
৫৭০/১ স্টেডিয়াম রোডে মানিকগঞ্জ - ১৮০০থেকে প্রকাশিত। ফোন -০১৯৬৮৮০০৯৩০
ইপেপার