মোঃ আতাউর রহমান, মেলান্দহ থেকেঃ
জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার মেলান্দহ বাজার সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) প্রকল্পের আওতায় নির্মিত নতুন এই রাস্তার কাজ পরিদর্শন ও এলাকাবাসীর জমি দানের মহৎ উদ্যোগ এখন পুরো উপজেলায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
সম্প্রতি গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) প্রকল্পের নির্মিত রাস্তার কাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করেন মেলান্দহ উপজেলার সুযোগ্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জনাব জিন্নাতুল আরা। এ সময় তাঁর সাথে ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলীসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। পরিদর্শনকালে কাজের গুণগত মান দেখে তাঁরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। মেলান্দহ বাজারের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন মোঃ চান মিয়ার বাড়ি থেকে মিজান নগর মসজিদ পর্যন্ত নতুন রাস্তা নির্মাণ হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দ-উৎসবের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এ রাস্তাটি বাস্তবায়নে এলাকাবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও জমি দান বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে।
রাস্তা নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলে ৫ ফুট করে মোট ১০ ফুট প্রশস্ত রাস্তার জন্য জমি দান করেছেন। এই মহৎ দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী জমিদাতাদের মধ্যে রয়েছেন শিলা আক্তার, মোঃ ফারুক মিয়া, মোঃ মকবুল হোসেন, মনি আক্তার, আকাশী আক্তার, হাজী বদিউজ্জামান (বদি), মোঃ নুরুল ইসলাম (মোস্তফা), মোঃ সবুজ মিয়া, ফরিদা বেগম, মোঃ মিজানুর রহমান, মোঃ হাসান আলী এবং মোঃ নাজের আলী। তাঁদের এই অসামান্য সহযোগিতার ফলে রাস্তার প্রশস্তকরণ ও নির্মাণকাজ অনেক সহজ হয়েছে।
এই প্রকল্পের মোট বরাদ্দ ছিল ২ লাখ ১৩ হাজার ১৫৩ টাকা ৩১৩ পয়সা। প্রকল্প সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা সমাজসেবা অফিসার। সার্বিক সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনা প্রদান করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক। রাস্তার মাটি কাটার কাজ বাস্তবায়নে এবং সার্বিক তদারকিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন পৌরসভায় কর্মরত মোঃ বিল্লাল হোসেন ও মোঃ নুরুল ইসলাম (মোস্তফা)। প্রশাসনিক আশ্বাসে জানা গেছে, সামনের দিনে এই কাঁচা রাস্তাটিকে পাকা করার জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে ঈদের নামাজ আদায় ও কেন্দ্রীয় গোরস্থানে মরদেহ আনার ক্ষেত্রে যাতায়াতে অনেক সহজ হবে। এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, জনকল্যাণ ও প্রশাসনের সম্মিলিত উদ্যোগে এ ধরনের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকুক এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
৫৭০/১ স্টেডিয়াম রোডে মানিকগঞ্জ - ১৮০০থেকে প্রকাশিত। ফোন -০১৯৬৮৮০০৯৩০
ইপেপার