নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝিনাইদহ : যমজ কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্ত্রীকে তালাক এবং সন্তান বিক্রির হুমকির অভিযোগে আলোচিত সেই ঘটনার অবসান ঘটেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপের পর ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার রিনা খাতুনকে পুনরায় বিয়ে করে দুই কন্যাসন্তানসহ ঘরে তুলে নিয়েছেন তার স্বামী রাকিবুল ইসলাম।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মহেশপুর থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসানের উদ্যোগে উভয় পক্ষকে নিয়ে আলোচনার আয়োজন করা হয়। দীর্ঘ আলোচনা শেষে পারিবারিক সমঝোতা প্রতিষ্ঠিত হলে কাজির উপস্থিতিতে ধর্মীয় ও আইনগত বিধান অনুসরণ করে পুনরায় তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।
জানা যায়, মহেশপুর উপজেলার কোলা গ্রামের বাসিন্দা রিনা খাতুন গর্ভে যমজ কন্যাসন্তান রয়েছে—এ তথ্য জানার পর থেকেই স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা তার প্রতি বিরূপ আচরণ শুরু করেন। একপর্যায়ে তাকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সন্তান জন্মের প্রায় দেড় মাস পার হলেও স্বামী তার কোনো খোঁজ নেননি। বরং তালাকের নোটিশ পাঠানোর অভিযোগ ওঠে।
ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজ্জাদ হোসেনের নির্দেশনায় প্রশাসন প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করে।
এর ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার অভিযুক্ত স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যদের থানায় ডাকা হয়। পুলিশের মধ্যস্থতায় আলোচনার একপর্যায়ে নিজের ভুল স্বীকার করে রাকিবুল ইসলাম স্ত্রী ও দুই কন্যাসন্তানকে সম্মানের সঙ্গে ঘরে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
সংসারে ফিরতে পেরে আবেগাপ্লুত রিনা খাতুন বলেন, “যে কাজটি গ্রাম কিংবা ইউনিয়ন পরিষদ করতে পারেনি, সেটিই করে দেখিয়েছেন মহেশপুর থানার ওসি। আল্লাহর কাছে দোয়া করি, যেন আমরা বাকি জীবন সুখে-শান্তিতে একসঙ্গে থাকতে পারি।
স্বামী রাকিবুল ইসলাম বলেন, “ভুল বোঝাবুঝির কারণে আমাদের বিচ্ছেদ হয়েছিল। ওসি স্যারের আন্তরিক প্রচেষ্টায় আমরা আবার এক হয়েছি। সবার কাছে আমাদের পরিবারের জন্য দোয়া চাই।
মহেশপুর থানার ওসি মেহেদী হাসান বলেন, “আমরা শুধু আইনি বিষয় বিবেচনা করিনি, দুই শিশুর ভবিষ্যৎ এবং একটি ভেঙে যাওয়া পরিবারকে পুনর্গঠনের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়েছি। তাই আইনগত ও ধর্মীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাদের পুনরায় বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারটির খোঁজখবর রাখা হবে।
৫৭০/১ স্টেডিয়াম রোডে মানিকগঞ্জ - ১৮০০থেকে প্রকাশিত। ফোন -০১৯৬৮৮০০৯৩০
ইপেপার