অভিযোগ বার্তা ডেস্কঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য জোরেশোরে কাজ শুরু করেছে বিএনপি। দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের দিকেও মনোযোগ দিয়েছে দলটি। অক্টোবর মাসের মধ্যে প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকা চূড়ান্ত করতে চায় দেশের অন্যতম বৃহৎ এই দল। এ লক্ষ্যে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব নানাভাবে কাজ করছেন।
দলীয় প্রার্থী ঠিক করার পাশাপাশি সমমনা ও যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের আসন ছাড় ও মনোনয়নের বিষয়টিও দ্রুত সুরাহা করতে চাইছেন বিএনপির নীতিনির্ধারকেরা। এ ক্ষেত্রে বেশি সময় নেওয়া হলে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ সুযোগ নিতে পারে বলে মনে করছেন বিএনপির নেতারা।
এবারের সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে একক প্রার্থী চূড়ান্তে তৎপর বিএনপি। নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে প্রার্থী মনোনয়ন দেবে দলটি। তবে আসন্ন নির্বাচনে তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে জেন-জির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে। সেজন্য প্রার্থী মনোনয়নে তাদের মনোভাবের কথা আমলে নিতে হবে।
এবার দেশের মোট ভোটারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই তরুণ। তাদের ভোট টানতে ইতোমধ্যে নানা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বিএনপি। এরই অংশ হিসাবে প্রার্থী মনোনয়নে অপেক্ষাকৃত তারুণ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে দেখা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে সাবেক ছাত্র ও যুব নেতারা এগিয়ে আছেন।
নিজ এলাকায় জনপ্রিয়তা, দলের জন্য ত্যাগ, বিগত দিনের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, দুঃসময়ে নেতা-কর্মীদের পাশে থাকা ও সাংগঠনিক দক্ষতা-এসব মানদণ্ড যাচাই করে প্রার্থী বাছাইপ্রক্রিয়াও প্রায় শেষ পর্যায়ে।
এ বাস্তবতা বিবেচনায় তরুণ প্রার্থীদের গুরুত্ব দেওয়া হবে। মূলত সে কারণেই মনোনয়নে চমক হতে পারেন ‘যোগ্য’ তরুণরা। এরই মধ্যে নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকায় এ ধরনের শতাধিক নেতা গণসংযোগ শুরু করেছেন। পাশাপাশি দলীয় মনোনয়ন লাভে তারা কেন্দ্রেও দৌড়ঝাঁপ করছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।
এ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, মনোনয়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি তরুণদের প্রাধান্য দেওয়া হবে। মানদণ্ড হবে প্রার্থীর জনপ্রিয়তা, নির্বাচন করার ক্ষমতা ও সাংগঠনিক দক্ষতা, জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা এবং বিগত আন্দোলনে তার অংশগ্রহণ কেমন ছিল।
জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, কোনো রাজনীতিতে প্রবীণ ও নবীনের সংমিশ্রণ ছাড়া চলে না। আমরা তরুণদের কথা বলছি , কিন্তু একেবারে যে প্রবীণদের বাদ দেওয়া হবে, এমন নয়। আমরা সেটা কখনো বলিনি। এখানে নবীন এবং প্রবীণের সংমিশ্রণে প্রার্থী দেওয়া হবে। জনগণের কাছে যাদের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে এবং ভোট টানতে পারবে- তাদের মনোনয়ন দেওয়া হবে।
বিএনপি নেতারা জানান, এবারের ভোটে জেন-জিসহ নতুন ভোটারদের মানসিকতা বুঝে প্রার্থী ঠিক করা হবে। সে অনুযায়ী প্রার্থী দিতে হবে। অন্যথায় ভোটের মাঠে প্রত্যাশিত ফলাফলে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। ফলে প্রার্থী বাছাইয়ে তারুণ্যের প্রাধান্য থাকবে।
অপেক্ষাকৃত তরুণ অন্তত শতাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী ইতোমধ্যে নির্বাচনি মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন—দলের ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত,ক্রীড়া সম্পাদক আমিনুল হক, সহ সাংগঠনিক সম্পদক ব্যারিস্টার মীর হেলাল, আন্তর্জাতিক সম্পাদক নাসির উদ্দিন অসীম, ইশরাক হোসেন, নিপুন রায় চৌধুরী, আবদুল কাদির ভূইয়া, রকিবুল ইসলাম বকুল,খোন্দকার আকবর হোসেন ডাবলু,আবু বকর সিদ্দিক, সাঈদ আল নোমান, ইসরাফিল খসরু, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, রাজিব আহসান, আকরামুল হাসান, বজলুল করিম চৌধুরী আবেদ, কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণ, মনজুরুল করিম রনি, আনোয়ার আলদীন, খন্দকার মারুফ হোসেন, সাইদুর রহমান, মির্জা ইয়াসিন আলীসহ আরও অনেক তরুন নেতা এগিয়ে আছেন।
সুএঃ দৈনিক যুগান্তর
৫৭০/১ স্টেডিয়াম রোডে মানিকগঞ্জ - ১৮০০থেকে প্রকাশিত। ফোন -০১৯৬৮৮০০৯৩০
ইপেপার