নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
রংপুর শহরের এমন কিছু জায়গা আছে, যেখানে সন্ধ্যা নামলেই শহর যেন একটু থমকে দাঁড়ায়, একটু স্বপ্নে ঢুকে পড়ে। খামার মোড় ঠিক তেমনই এক জায়গা—যেখানে বাস্তব আর কল্পনার মাঝে একরকম মায়াবি আলোর পর্দা পড়ে যায়।
সন্ধ্যার পর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, কারমাইকেল কলেজসহ শহরের বিভিন্ন স্কুল কলেজের স্বপ্নবাজ তরুণ-তরুণীরা আড্ডা গল্পে মেতে ওঠে। কারো হাতে চা-কফির কাপ, আর মুখে আধা-কথা, আধা-কবিতা। কেউ টিউশনি শেষ করে ক্লান্ত চোখে হলেও হাসিমুখে হাজির হয় মোড়ে। কেউ আবার শুধু বন্ধুদের সঙ্গে খানিক গল্প করতেই আসে এখানে। কেউবা আসে রোমান্টিকতা নিয়ে, কেউবা আসে প্রিয় সঙ্গীনের খোঁজে আবার কেউ আসে শুধু এই জায়গার প্রেমে পড়ে।
খামারবাড়ির মোড় তখন আর সাধারণ কোনও মোড় থাকে না—তা যেন এক যাদুকরী মঞ্চ। মোবাইলের ফ্ল্যাশে মুখ আলোকিত হয়ে ওঠে, হাসির ঢেউ গড়ায় চায়ের কাপের ধোঁয়ার সঙ্গে। টং দোকানে বাজে কোন বিরহ বা রোমান্টিক গান। আবার ঝিরঝিরে বাতাস এসে বলে “এই গল্পগুলো হারিয়ে যেও না।”
এই মোড়ে প্রেম হয়, কবিতা লেখা হয়, স্বপ্ন আঁকা হয়। কেউ কেউ দূরে বসে গল্প শুনে, কেউ আবার আকাশের তারা গোনে। কেউ কাউকে মন খুলে ভালোবাসার কথা বলার সাহস খুঁজে পায় এখানেই। তাই তো মনে হয়—সন্ধ্যা হলে খামারবাড়ির মোড়ে পরীরা নামে।
এরা আসলে বাস্তবেরই পরী—চোখে স্বপ্ন, মুখে হাসি, আর মনের মধ্যে অনেক অজানা গল্প। রংপুর শহরের ব্যস্ততায় এই মোড়টা যেন এক অদৃশ্য কাব্যিক বিরতি—যেখানে কেউ কাউকে পায়, কেউ কাউকে হারায়, কেউ বা শুধু নিজেকেই নতুন করে খুঁজে পায়।
৫৭০/১ স্টেডিয়াম রোডে মানিকগঞ্জ - ১৮০০থেকে প্রকাশিত। ফোন -০১৯৬৮৮০০৯৩০
ইপেপার