আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
লেবাননের সশস্ত্রগোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাত সর্বাত্মক যুদ্ধের দিকে মোড় নিচ্ছে। লেবাননের বিভিন্ন টার্গেটে কয়েক দিন থেকে লাগাতার হামলা করছে ইসরায়েল। এতে হতাহত মানুষের সারি দীর্ঘ হওয়ার পাশাপাশি বাস্তুচ্যুতদের সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে। এ প্রেক্ষিতে গতকাল হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তারা তেল আবিবের কাছে ইসরায়েলের গোয়েন্দা বাহিনী মোসাদের সদর দপ্তর লক্ষ্য করে রকেট হামলা করেছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এ ঘটনাকে ব্যাপক প্রশংসা করেছে। খবর আল জাজিরা, বিবিসি।
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী গত সোমবার থেকে লেবাননে ব্যাপক মাত্রায় বিমান হামলা শুরু করেছে। শুধু গতকালই ইসরায়েলের হামলায় লেবাননে ৫১ জন নিহত এবং ২২০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। এর আগে দুদিনে লেবাননে ইসরায়েলের হামলায় সাড়ে ৫শর বেশি লোক নিহত হয়েছেন। ১৯৯০ সালে দেশটিতে গৃহযুদ্ধ অবসানের পর গত সোমবার সবচেয়ে বেশি সংখ্যক প্রাণহানি দেখেছে দেশটি। এদিকে গতকাল পর্যন্ত লেবাননে প্রায় ৯০ হাজার মানুষ এ যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়েছে।মোসাদের সদর দপ্তরে হিজবুল্লার হামলা নিয়ে তেমন তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এ সম্পর্কে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী বলেছে, লেবানন থেকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র সীমান্ত অতিক্রম করে ইসরায়েলে প্রবেশ করছে। কিন্তু সেটি ইসরায়েলি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রুখে দিয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র আরও বলেন, ক্ষেপণাস্ত্রটি তেল আবিবের বেসামরিক এলাকার দিকে যাচ্ছিল। ওই এলাকায় মোসাদের সদর দপ্তর নেই।
হিজবুল্লাহকে নানাভাবে সমর্থন দিয়ে থাকে ইরান। মোসাদের সদর দপ্তরে রকেট হামলার ঘটনাকে হিজবুল্লার বিজয় হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। অন্যদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান গত সোমবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ভাষণে বলেন, ইরান মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর যুদ্ধ চায় না, এ ধরনের সংঘর্ষে কোনো পক্ষ বিজয়ী হবে না।
অন্যদিকে তেল আবিবে রকেট হামলার ঘটনায় ‘গভীর নজর’ রাখছে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, তারা ইসরায়েলের সামরিক এবং রাজনৈতিক সমর্থক কিন্তু সর্বাত্মক যুদ্ধ এড়াতে কূটনীতিক প্রচেষ্টাকে এগিয়ে রাখতে চায়।
হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতির প্রসঙ্গে ব্লিংকেনের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জবাব দেন, এটি এখনো ইসরায়েলের পক্ষ থেকে কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রয়োজন। তবে গাজায় যা ঘটছে তা বন্ধ করার এবং জিম্মিদের মুক্ত করার এটিই সেরা সময়।
উল্লেখ্য, ইসরায়েলি হামলায় গাজায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ৪১ হাজার ছাড়িয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৯৬ হাজারের বেশি মানুষ। হতাহতদের মধ্যে অর্ধেকের বেশি নারী ও শিশু।
৫৭০/১ স্টেডিয়াম রোডে মানিকগঞ্জ - ১৮০০থেকে প্রকাশিত। ফোন -০১৯৬৮৮০০৯৩০
ইপেপার