লাকী আক্তার,ব্যুরো প্রধানঃ
সিলেটে নিজেকে আইনজীবী পরিচয় দিয়ে ১২ লাখ টাকা আত্মসাৎ এবং পরবর্তীতে অপহরণ ও জিম্মি করে জোরপূর্বক স্ট্যাম্পে সই আদায়ের মতো চাঞ্চল্যকর এক অভিযোগ উঠেছে। রুবানা আক্তার লিজা (২৮) নামক এক নারীর বিরুদ্ধে, এই গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ্ব নাজিম উদ্দিন।
আজ রোববার (২৬ এপ্রিল) এই বিষয়ে ২নং জাফলং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন ভুক্তভোগী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের জুন মাসে ঢাকা হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে রুবানা আক্তার লিজার সাথে নাজিম উদ্দিনের পরিচয় হয়। লিজা নিজেকে আইনজীবী পরিচয় দিয়ে তাকে বিভিন্ন আইনি জটিলতা নিরসনের আশ্বাস দেন। লিজা সিলেটের জৈন্তাপুর এলাকার বাসিন্দা,শিক্ষাগত যোগ্যতা ৮ম শ্রেণি অবধি পড়াশোনা করেন কিন্তু লিজা নিজেকে এ্যাডভোকেট দাবী করে, সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছে।লিজার বাসায় তথ্য সংগ্রহ ও বক্তব্য আনতে গেলে লিজা নিজেকে সিলেট ল' কলেজ এর ছাত্রী দাবী করে, কিন্তু সাংবাদিকবৃন্দ থাকে প্রশ্ন করলে, লিজা আটকে যায়, সে কত ব্যাচ এর ছাত্রী ল' কলেজ এর জানতে চাইলে, তাও বলতে পারে না। এবং শিক্ষাগত সার্টফিকেট দেখাতে বললে তাও দেখাতে পারে না। লিজা সাংবাদিক'দের কাছে নিজেকে আইনজীবি দাবী করে, লিজা সিলেট কোর্ট এলাজায় ঘুরাঘুরি করার সময় লক্ষ করা যায় তার কলার টাই সাদা রংয়ের, কিন্তু এই টাই হাই কোর্টের উকিল যারা তারা পরার যোগ্যতা রাখেন। তাহলে এই ছদ্মবেশ ধরেই লিজা জনগণকে ঠকায়। ১০০% সত্যি এটাই, লিজা আইনজীবী নহে।
লিজা'র কথায় বিশ্বাস করে ভুক্তভোগী তিনটি মামলার (মেসার্স আব্দুল মালেক এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স তালবাড়ি মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি ও মেসার্স জুবায়ের এন্টারপ্রাইজ) আইনি লড়াইয়ের দায়িত্ব দেন। অভিযোগ অনুযায়ী, হাইকোর্টে অনুকূল আদেশের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধাপে ধাপে লিজা ভুক্তভোগীর কাছ থেকে মোট ১২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন।
অপহরণ ও জিম্মি করে টাকা আদায়ের অভিযোগ আছে বলে
ভুক্তভোগী জানান, টাকা দেওয়ার পর অভিযুক্ত কোনো রিট পিটিশন দায়ের না করে তালবাহানা শুরু করেন। টাকা ফেরত চাইলে লিজা তাকে হাইকোর্টের সামনে ডেকে নিয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার সহযোগীদের মাধ্যমে অপহরণ করেন। সেই সময় অভিযুক্ত ও তার সঙ্গীরা ভুক্তভোগীর কাছ থেকে নগদ ৫০ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়। প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে তাকে দুই ধরণের নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে সই করতে বাধ্য করা হয় এবং পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী কৌশল অবলম্বন করে সেখান থেকে পালিয়ে আসতে সক্ষম হন।
ভুক্তভোগী নাজিম উদ্দিন জানান, এই ঘটনায় তিনি এরই মধ্যে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন। ঘটনার পর গত ১২ মার্চ সিলেটে সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-৭৫৬) করেন এবং পরে প্রতারণার দায়ে মামলা (নং-৮৫/২০২৬) দায়ের করেন। এছাড়া গত ২ মার্চ অপহরণ সংক্রান্ত আরেকটি মামলা (নং-০৮/২০২৬) দায়ের করেছেন, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।
ভুক্তভোগী আরো জানান, লিজা তার গংদের দিয়ে একটি চেকে ২৯০০০ টাকা নিয়ে নেয়, তারপর এই চেক জালিয়াতি করে ২৯০০০ টাকার আগে ৫ লক্ষ টাকা নিজের মতো করে বসিয়ে নেয়।এটা লিজার চেক জালিয়াতি, চেক জালিয়াতি 'র মামলা দায়ের করতে পারেন তাও জানান ভুক্তভোগী নাজিম। এভাবেই সিলেট বিভাগসহ বাহিরের বিভাগের জনসাধারণকে ঠকানোই লিজার মূল উদ্দেশ্য।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, লিজার ভাই মিজানুর রহমান রুবেলও এই ঘটনার সাথে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে জড়িত রয়েছেন।
এসময় নাজিম উদ্দিন এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট তার আত্মসাৎকৃত ১২ লাখ টাকা উদ্ধার এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
৫৭০/১ স্টেডিয়াম রোডে মানিকগঞ্জ - ১৮০০থেকে প্রকাশিত। ফোন -০১৯৬৮৮০০৯৩০
ইপেপার