জামালপুরে চাকুরী দেওয়ার নামে প্রতারনায় অর্থ আত্মসাৎ \বিভাগীয় মামলা দায়ের

News Editor
প্রকাশ: ১২ মাস আগে

নিজস্ব প্রতিনিধি:
জামালপুর সদর উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামের মোহাম্মদ আলীর পুত্র মোঃ আঃ আউয়ালকে চাকুরী দেওয়ার নামে তার কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় ৩ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ করেছে শেরপুর জেলার নকলা উপজেলার বারমাইশা গ্রামের মৃত আঃ মজিদের পুত্র পুলিশ কনস্টেবল (ড্রাইভার) মোঃ সামিদুল ইসলাম। জানা যায় আব্দুল আউয়ালকে রেলওয়ের চাকুরী নিয়ে দেওয়ার কথা বলে পূবালী ব্যাংক লিঃ, ডাচ বাংলা ব্যাংক এবং বিকাশের মাধ্যমে প্রায় ৩ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় ময়মনসিংহের গৌরীপুর থানায় কর্মরত অবস্থায় ড্রাইভার সামিদুল ইসলাম। এ নিয়ে ময়মনসিংহ পুলিশ সুুপার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী আউয়াল এর শুশুর মোঃ নজরুল ইসলাম। তিনি তার অভিযোগ লিপিতে বলেন আমি সামিদুলকে বিশ^াস করে আউয়ালকে টাকা দিতে বলি। সে বিভিন্ন সময় আউয়ালয়ের কাছ থেকে প্রায় ৩ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ করে নেয়। বিষয়টি আমি বুঝতে পেরে তাকে টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য বলি। কিন্তু সে আমাকে পুলিশের চাকুরী করার সুবাদে উল্টো নানা ধরনের ভয়ভীতি এবং মামলায় হয়রানি করার হুমকি দেয়। বিষয়টি উর্ধ্বতন কতৃর্পক্ষকে জানালে তার নামে বিভাগীয় মামলা দায়ের করে উর্ধ্বতন কতৃর্পক্ষ যার নং—০৭/২০২০ খ্রিঃ। মামলা হওয়ার পর ৬০ হাজার টাকা ফেরত দিলেও বাকী ২ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা ফেরত না দিয়ে পলাতক রয়েছে। এ নিয়ে তার স্থায়ী ঠিকানায় লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করা হলেও তার কোন জবাব পাওয়া যায়নি। অথচ ময়মনসিংহ জেলার বিভাগীয় মামলা নং—০৭/২০২০ মূলে আপোষ নামায় অবশিষ্ট ২ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা ১৫/০৮/২০২০ ইং তারিখের মধ্যে পরিশোধ করার কথা ছিলো। এ নিয়ে পরবর্তী কর্মস্থল পুলিশ সুপার কক্সবাজার ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, পর্যটন থানা পুলিশ বিভাগে নোটিশ পাঠানো হলেও ড্রাইভার সামিদুল ইসলাম কোন টাকা ফেরত দেয়নি। অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টবল সামিদুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে অভিযোগকারী জামালপুর সদর উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের শ্রীপুর কুমারিয়া গ্রামের মৃত নূর হোসেনের পুত্র মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন ড্রাইভার কনস্টেবল/৭১১ মোঃ সামিদুল ইসলাম সম্পর্কে আমার ভাগ্নি জামাতা। সে আউয়ালকে রেলওয়েতে চাকুরী নিয়ে দিবে এই কথা বলে আমাদের কাছ থেকে নগদ ৩ লক্ষ টাকা নেয়। চাকুরী দিতে না পারায় আমি ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। উক্ত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রিজার্ভ অফিস ময়মনসিংহ স্মারক নং—১১২৬/(আরও), তাং—১৭/০২/২০২০ খ্রিঃ এবং ময়মনসিংহ জেলার বিভাগীয় মামলা নং—০৭/২০২০ খ্রিঃ একটি আপোষানামা করা হয়। সেখানে অভিযুক্ত সামিদুল ইসলাম ৬০ হাজার টাকা দিয়ে বাকী ২ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা ১৫/০৮/২০২০ খ্রিঃ মধ্যে প্রদান করবে বলে লিখিত প্রদান করেন। অদ্যবধি সে আমার বাকী অর্থ ফেরত না দিয়ে তালবাহানা শুরু করে এবং অর্থ ফেরত চাইলে আমাকে ও আমার পরিবারের সদস্যদেরকে বিভিন্ন মামলার ভয় দেখিয়ে আসছে। আমি নিরুপায় হয়ে টাকা উদ্ধারের জন্য গত ১৯/১০/২০২০ খ্রিঃ তারিখে সামিদুলের স্থায়ী ঠিকানায় লিগ্যাল নোটিশ পাঠাই এবং তার অনুলিপি পুলিশ সুপার কক্সবাজার, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, পর্যটন থানা পুলিশে পাঠাই। কিন্তু এখন পর্যন্ত সে কোন জবাব দেয়নি। যার কারনে পরবতীর্তে আমি বিজ্ঞ জামালপুর সদর আমলী আদালত এ একটি সিআর মোকদ্দমা দায়ের করি যার নং—৯৩৩(১) ২০২০। মামলা হওয়ার পর বিজ্ঞ আদালত আসামীদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারী করে। উক্ত ওয়ারেন্ট জারী হওয়ার পর থেকে পলাতক রয়েছে সামিদুল ইসলাম ও স্ত্রী জাকিয়া ডলি। টাকা উদ্ধারে ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি ও উধর্বতন কর্মকর্তাদের সহযোগিতা কামনা করছি।