ঈদের আগেই মুরগির বাজারে অস্থিরতা। 

নিউজ ডেক্স
প্রকাশ: ২ মাস আগে

আসছে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আর মাত্র কিছুদিন বাকি।

এর মধ্যেই অস্থিরতা দেখা দিয়েছে নিত্যপণ্যের বাজারে।

ঈদকে ঘিরে এবার আগেই বাজারে বেড়েছে মুরগির দাম। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগি ও সোনালি মুরগির দাম কেজিতে বেড়ে ৪০ টাকারও বেশি। এদিকে বাজারে গরুর মাংসের দামও এখন চড়া। আর চাল, ডাল, আটা, ময়দা ও সয়াবিনের মতো নিত্যপণ্যগুলোর দাম উচ্চ মূল্যে স্থিতিশীল আছে।

বিক্রেতারা বলছেন, ঈদ উপলক্ষে এখন খামারি পর্যায়েই মুরগির দাম বাড়তি, যার কারণে বাজারে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। কিছুটা বেড়েছে আলুর দামও।শুক্রবার (৫ এপ্রিল) কুমিল্লা নগরীর কয়েকটি বাজার ঘুরে এ তথ্য পাওয়া গেছে।সরেজমিনে নগরীর বাজার ঘুরে দেখা যায়, ব্রয়লার মুরগি ২৪০ থেকে ২৪৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগি ২০০ থেকে ২০৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল। বাজারগুলোতে সোনালির কেজি ৩৪০ টাকা, সোনালি হাইব্রিড ৩২০ টাকা, দেশি মুরগি ৬৫০ থেকে ৬৮০ টাকা, লেয়ার মুরগি ৩৪০ টাকা এবং সাদা লেয়ার ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে, রমজান মাসে চাহিদা কম থাকায় সপ্তাহ ব্যবধানে দেশে সব ধরনের সবজির দাম স্থিতিশীল রয়েছে। পেঁয়াজ ও আলু আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। দেশি পেঁয়াজ ৫০ টাকা, দেশি পুরোনো পেঁয়াজ ৬০ টাকা এবং আলু ৪৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।এসব বাজারে গ্রীষ্মকালীন সবজি কচুর মুখীর কেজি ৮০ টাকা, বেগুন ৩০ থেকে ৫০ টাকা, করলা ৭০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকায়, শসা ৭০ টাকা, ক্ষীরা ৬০ টাকা, লাউ প্রতিটি ৩০ থেকে ৫০ টাকা, পেঁপের কেজি ৫০ টাকা, ধুন্দুল ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ৫০ টাকা, কচুর লতি ৮০ টাকা, ঝিঙ্গা ৬০ টাকা এবং সজনে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।প্রতি কেজি মুলা ৪০ টাকা, শিম ৩০ থেকে ৫০ টাকা, ফুলকপি প্রতিটি ৩০ থেকে ৪০ টাকা পিস, বাঁধাকপি ৩০ থেকে ৪০ টাকা পিস, ব্রোকলি ৩০ টাকা, পাকা টমেটোর কেজি প্রকারভেদে ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং গাজর ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়াও শাকের মধ্যে পাট শাক আটি ১৫ থেকে ২০ টাকা, ডাটা শাক ১৫ টাকা, পালং ১৫ থেকে ২০ টাকা, লাউ শাক ৩০ থেকে ৪০ টাকা, লাল শাক ১৫ টাকা আটি বিক্রি হচ্ছে। তবে বাজারের দোকানের তুলনায় ভ্যানে কিংবা ফুটপাতের দোকানগুলোতে সব ধরণের সবজি ৫ থেকে ১০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে।

রাজগঞ্জ বাজারের এক মুরগি বিক্রেতা বলেন, গত সপ্তাহের তুলনায় ব্রয়লার মুরগিরসহ সব ধরনের মুরগির দাম পাইকারি বাজারে কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। পাইকারি বাজারে দাম বাড়ায় খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়েছে।অপরদিকে বাজারে গরুর মাংসের দামও চড়া। প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৫০-৭৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর কলিজা ৭৫০ টাকা, গরুর মাথার মাংস ৪৫০ টাকা, গরুর বট ৩৫০ টাকা এবং খাসির মাংসের কেজি ১ হাজার ৫০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এ বিষয়ে ক্রেতারা বলছেন, ‘ঈদকে সামনে রেখে এখন থেকেই অস্থিরতা তৈরি করা হয়েছে।

বাজারগুলোতে লাল ডিমের ডজন ১২৫ টাকা। হাঁসের ডিম ১৮০ টাকা ডজন, দেশি মুরগির ডিমের হালি ৮৫ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

মাছের বাজার নতুন করে চড়া না হলেও এখনো বেশি দামেই বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি চাষের তেলাপিয়া ও পাঙাশ আকারভেদে ২০০-২৫০ টাকা, কই মাছ ২৫০-৩০০ টাকা আর রুই ৩০০-৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রাকৃতিক উৎস থেকে পাওয়া মাছের দাম অনেক বেশি।

  • ঈদের আগেই মুরগির বাজারে অস্থিরতা।