
নিউজ ডেস্কঃ
আশির দশকের শুরুতে ইরাকে ফিডার মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করতেন ফেনীর ছাগলনাইয়ার নীচপনুয়া গ্রামের নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান খন্দকার এনায়েত উল্লাহ। দেশে ফিরেও কোন সুবিধা করতে না পেরে রাজধানীর মিরপুরে আশ্রয় নেন। এখানে পরিচয় হয় তৎকালীন মিরপুর গুলিস্তান রুটের একটি পরিবহনের নেতা সাইফুল ও বাতেনের সঙ্গে। তাদের আশ্রয় প্রশয়ে একটি বাস নামান এনায়েত। এক সময় পরিবহন নির্দলীয় থাকলেও ১৯৯১ সালে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। ৯৬ সালে হঠাৎ বিএনপি ছেড়ে কজন লোক নিয়ে ওঠে যান জনতার মঞ্চে। ব্যস। তারপর তার কপাল খুলে যায়।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর আশীর্বাদ পেয়ে যান। এ সময় তিনি দখল করে নেন এনা পরিবহনের একক কর্তত্ব। ২০০১ সালে আবারও বিএনপি জামায়াত জোট সরকার গঠনের পর তিনি কিছুদিন আত্মগোপনে চলে যান। ওই সরকার পতনের শেষ মুহুর্তে তিনি এসে আবারও সক্রিয় হন পরিবহন সেক্টরে। ২০০৯ সালে আওয়মাী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার গঠনের এনায়েতের নিয়ন্ত্রনে চলে যায় পরিবহণ জগতের একক কতৃত্বময় অফিস ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি।
সর্বশেষ বিগত ৫ আগষ্টের সরকার পতনের আগ মুহুর্তে এনায়েত দেশ ছেড়ে যান অষ্ট্রেলিয়ায়। কিন্তু মাঝখানে এই পনের বছরে আবির্ভূত হন পরিবহন জগতের একক মাফিয়া হিসেবে। এদেশের পরিবহন জগতের চাদাবাজির মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাত করা যায় তার নজির গড়ে গেছেন তিনি। এ নিয়ে টিআইবি সহ মিডিয়ায় তার চাদাবাজির ফিরিস্তি প্রকাশ করার পর তৎপর হয়ে ওঠে দুদক।কিন্তু এনায়েতের ক্ষমতার দাপটে দুদক চুপসে যেতে বাধ্য হয়। এক দুপুরে প্রধানমন্ত্রির কার্যালয়ের একটি ফোন কলেই থমকে যায় এনায়েতের বিরুদ্বে শুরু হয় দুদকের অনুসন্ধান।
জানা গেছে, এখন পরিবহণ সেক্টর থেকে ফের দাবি তুলেছে ক্ষতিগ্রস্ত মালিকরা। তাদের অভিযোগ এনায়েত পালিয়ে গেলেও এখনো বিদেশ থেকে রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে কলকাঠি নাড়ছেন। সে পালিয়ে গেলেও তার অবর্তমানে যারা ব্যবসার হাল ধরেছে তারা কিভাবে টাকা পাচার করছে সেটার তদন্ত দাবি করছে ঢাকা সড়ক। অভিযোগ রয়েছে- বর্তমানে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির নতুন কমিটির পিছনে নানা চক্রান্তে লিপ্ত এনায়েত বাহিনীর সাইদ, রফিক,কাজল, আতিক,. সামদানি, খোকন, সোহরাব ও আজিজ। এদের মধ্যে তার ক্যাশিয়ার হিসেবে পরিচিত আতিক, আজিজ, সামদানি ও খোকন। রাজধানী সহ দেশের বিভিন্ন টার্মিনালে তাদের দোসরর্ াএখনো সক্রিয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এনায়েতের অনুপস্থিতিতে তার দুই শতাধিক বাস থেকে উপার্জিত টাকা কে নিচেছ কোথায় কিভাবে পাচার করা হচেছ তা তদন্ত করতে মাঠে নেমেছে একটি গোয়েন্দা সংস্থা। এ বিষয়ে ঢাকা সড়ক পরিবহণ সূত্র জানিয়েছে- গত ৫ আগষ্ট সরকার পতনের আগ মুুহুর্তে এনায়েত সপরিবারে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাবার পরও তার বাসের একক ব্যবসা এখনো রমরমা। প্রতিদিন মহাখালি টার্মিনাল থেকে তার এসব বিলাসবহুল বাস ময়মনসিংহ, সিলেট ও কক্সবাজারে চলছে।
এসব গাড়ি আগে চলতো তার নিজস্ব কোম্পানী এনার নামে। ৫ আগষ্ট সরকার পতনের পর বিএনপি গাবতলীর টাার্মিনালের হানিফ পরিবহনের মালিক মার্সিডিজ ব্র্যান্ডের বিলাসবহুল ১৪টি বাস কিনে নেয়। বাকিগুলো বিএনপির অপর এক নেতার সহায়তায় মহাখালি টার্মিনাল থেকে চলছে। এনায়েতের দুই ক্যাশিয়ার আতিক ও আজিজ দৈনিক মহাখালি থেকে আয়ের ২২ থেকে ২৪ লাখ টাকা নিয়ে কিভাবে এনায়েতের কাছে পাঠাচেছ সেটার তদন্ত হওয়া উচিত।
কারণ দেশে বর্তমানে এনায়েতের ব্যাংক হিসেবে দৈনিক এত টাকা জমা হচেছ নাকি, অন্যভাবে বিদেশে পাচার হচেছ সেটার সুষ্টু তদন্ত হলে, কেচো খুড়তে সাপ বেরিয়ে আসার মতো পরিস্থিতি হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা সড়কের মহাসচিব এম এ বাতেন। তিনি অভিযোগ করেন, এনায়েত পালিয়ে গেলেও পরিবহন সেক্টরে তার আধিপত্য এখনো আগের মতোই রয়েছে। বর্তমানে এক বিতর্কিত বিএনপি নেতার মদদে এনায়েত আগের মতই ব্যবসা চালানোর সুযোগ পাচেছ। এমনকি গার্মেন্টস সেক্টরের মতো পরিবহণ সেক্টরকে অস্থিরতা ও নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা চলছে।
মালিক সমিতির ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, এনায়েত খুবই ধুর্ত ও লোভী। নিজের স্বার্থের জন্য মুহুর্তের মধ্যেই তিনি তার দুঃসময়ে থাকা লোকদের ক্ষতি করতে দ্বিধা করতেন না। যেই সাইফুল- বাতেনের আর্শীবাদে এনায়েত একটি মাত্র বাস চালানোর মাধ্যমে পরিবহনে আত্মপ্রকাশ করেন, তাদেরকেই তিনি ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন হবার পরদিনই এনায়েত রাতের অন্ধকারে দখল করে নেন তৎকালীন নির্বাচিত কমিটি সাইফুল বাতেনের অফিস। সেই থেকে টানা পনের বছরে তিনি একটি বাসের মালিক থেকে হয়েছেন ২৭৮ টি বিলাসবহুল বাসের মালিক।
এসব বাসের মধ্যে এসি-নন এসি বাস রয়েছে। প্রতিটি বাসের দাম ২ কোটি টাকা থেকে শুরু করে ৫ কোটি টাকা পর্যšত। শুধু চাদাবাজির টাকায় এসব অর্জন করেন।চাদাবাজি কি পরিমাণ হতো সেটার নূন্যতম হিসেব দিয়ে মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ জানায়- শুধু রাজধানীতে রয়েছে ৪ হাজার বাস। প্রতিটি গাড়ি থেকে দৈনিক কমপক্ষে ৭ শ ওপরে কোন কোন ক্ষেত্রে ১৮ শ টাকা পর্যন্ত চাদা তোলা হতো। গড়ে প্রতিটি গাড়ি থেকে ১ হাজার হিসেবে দৈনিক তোলা হত ৪ কোটি টাকা। মাসিক ১২০ কোটি টাকা। বছরে ১৪৭৮ কোটি টাকা।
এ হিসেবে গত পনের বছরে উত্তোলিত চাদার পরিমাণ হয় ২২ হাজার ১৭০ কোটি টাকা। কিন্তু নির্মম সত্য এটাকার একটিও নেই এখন ঢাকা সড়ক মালি পরিবহণ অফিসে। শুধু পরীবাগের বিলাসবহুল অফিসটা কেনা হয়েছিল কয়েক কোটি টাকায়। আবার এটাও তিনি নিজের নামে দলিল করে আত্মসাত করে নেন এই গডফাদারের বিরুদ্বে কেউ কোন ব্যবস্থা নেয়নি।
উৎসঃ জনকণ্ঠ
মন্তব্য করুন
Design & Developed by BD IT HOST