Koi
মো গোলাম কিবরিয়া,নড়াইল জেলা:
নবগঙ্গা ডিগ্রি কলেজ দক্ষিণ লোহাগড়ার ঐতিহ্য বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এটা কোন গ্রাম বা ইউনিয়নের সম্পদ নয়। অতএব এই প্রতিষ্ঠান নিয়ে কেউ আঞ্চলিক বিভেদ সৃষ্টি করুক,সাধারণ মানুষ এটা প্রত্যাশা করে না।।কয়েকটি ইউনিয়নের শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিদের সহযোগীতায় এই প্রতিষ্ঠান তৈরী হয়েছিল।।
নবগঙ্গা ডিগ্রী কলেজ, লোহাগড়া উপজেলার অন্যতম প্রাচীন ও খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। দীর্ঘদিন ধরে এ প্রতিষ্ঠানটি তার শিক্ষার গুণগত মান ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রেখে একটি মডেল হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। এখানকার শিক্ষার্থীরা শুধুমাত্র লোহাগড়া নয়, বরং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে। তবে সম্প্রতি কলেজের সভাপতি পদে টিপু সুলতানের নিযুক্তি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, যা প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার হুমকি দিচ্ছে।
টিপু সুলতান একজন সুপরিচিত বিএনপি নেতা এবং সর্বজনবিদিত সৎ মানুষ। সমাজসেবা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে তার দীর্ঘদিনের অবদান অনেকের কাছেই প্রশংসিত। নবগঙ্গা ডিগ্রী কলেজের সভাপতি হিসেবে তার নিযুক্তি অনেকের জন্য স্বস্তি হলেও, কিছু ছাত্র-ছাত্রী এবং অন্যান্য মহল তাকে অপসারণের দাবি তুলেছেন। গত ২২ সেপ্টেম্বর, রবিবার কলেজ প্রাঙ্গণে তার অপসারণের দাবিতে ছাত্র-ছাত্রীরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন।
এই পরিস্থিতি অনেকের কাছে বিস্ময়কর। কারণ, যারা ব্যক্তিগতভাবে টিপু সুলতানকে জানেন, তারা নিশ্চিত যে তিনি একজন নৈতিকতাসম্পন্ন ও জনকল্যাণপ্রেমী মানুষ। তার সততা এবং শিক্ষার প্রতি দায়বদ্ধতা প্রশ্নাতীত। ছোটবেলা থেকেই সমাজের উন্নয়ন এবং মানুষের মঙ্গলের জন্য কাজ করে আসছেন তিনি। সুতরাং, তার মতো একজন দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তির নেতৃত্বে কলেজের উন্নতি হবে—এটি স্বাভাবিক প্রত্যাশা।
তাহলে কেন এমন একজন সদাশয় নেতার বিরুদ্ধে অপসারণের দাবি উঠছে? কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, এই প্রতিবাদ সম্ভবত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অথবা ব্যক্তিগত স্বার্থের সংঘাতের ফল। এ ধরনের কর্মকাণ্ড শিক্ষার পবিত্রতা ও প্রতিষ্ঠানটির সুনাম নষ্ট করতে পারে। নবগঙ্গা ডিগ্রী কলেজের শিক্ষার মান দেশের বিভিন্ন প্রান্তে উচ্চ প্রশংসা পেয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র বা অপপ্রচার প্রতিষ্ঠানটির গুণগত মানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এই পরিস্থিতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির স্বার্থে, ব্যক্তিগত স্বার্থকে পেছনে ফেলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন। টিপু সুলতান সভাপতি পদে থাকলে কলেজের উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করবেন, এটি তার দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতা এবং নৈতিকতার ওপর ভিত্তি করে বলা যায়। তার কর্মদক্ষতা এবং আন্তরিকতা তাকে একজন প্রকৃত নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে, যার নেতৃত্বে নবগঙ্গা ডিগ্রী কলেজ নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে।
তবে এর জন্য সবার আগে প্রয়োজন, কলেজের পরিবেশকে রাজনীতি ও ব্যক্তিগত স্বার্থের প্রভাবমুক্ত রাখা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলো একটি পবিত্র স্থান, যেখানে শিক্ষার গুণগত মান এবং শিক্ষার্থীদের সুষ্ঠু পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তিগত স্বার্থের কারণে এ ধরনের প্রতিষ্ঠানকে নষ্ট করা দায়িত্বহীনতার পরিচায়ক। যারা নবগঙ্গা ডিগ্রী কলেজের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করছেন, তাদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকা উচিত।
টিপু সুলতান যদি নবগঙ্গা ডিগ্রী কলেজের সভাপতির পদে থাকেন, তবে তার নীতিবোধ, সততা এবং জনকল্যাণমুখী মনোভাবের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি আরও উন্নত হবে—এ বিষয়ে কারো সন্দেহ নেই। তার নেতৃত্বে কলেজের শিক্ষার মান আরও শক্তিশালী হবে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য আরও উন্নত শিক্ষা পরিবেশ তৈরি হবে। শিক্ষার জন্য তার গভীর দায়বদ্ধতা এবং প্রচেষ্টা কলেজের সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
অতএব, সবাইকে অনুরোধ করা হচ্ছে, নবগঙ্গা ডিগ্রী কলেজের মতো একটি প্রতিষ্ঠানের মঙ্গল এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের দিকে নজর দিয়ে নিজেদের স্বার্থ ত্যাগ করতে হবে। একজন যোগ্য ও সৎ নেতৃত্বের মাধ্যমে কলেজটি আরও সমৃদ্ধ হবে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি মডেল হিসেবে কাজ করবে।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by BD IT HOST