মেলান্দহ (জামালপুর) প্রতিনিধিঃ
জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার ১৩ নম্বর পশ্চিম মাহমুদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। তবে স্থানীয়দের একাংশ ও পরিবারের দাবি, স্কুলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও আর্থিক সুবিধার জন্য স্থানীয় একটি চক্র ঘটনাটি নিয়ে ষড়যন্ত্রমূলক নাটক সাজিয়েছে।
প্রত্যক্ষ সাক্ষীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ২য় ঘণ্টার পর ( সময় ১১:২৫) অভিযুক্ত শিক্ষক মো. মাহবুবুর রহমান, ৩য় ঘণ্টার ক্লাস নেওয়ার জন্য ২য় তলা থেকে নিচ তলায় নেমে দেখেন, ছাত্র-ছাত্রীরা ক্লাসে না গিয়ে মাঠের মধ্যে এলোমেলো দৌড়াদৌড়ি করছে । তিনি তাদের ক্লাসে ঢুকার জন্য বলেন । ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রীটি ক্লাসে ঢুকতে গড়িমসি করে তাই তিনি তার পিঠে একটি থাপ্পড় দান এবং ক্লাসে যেতে বলেন। ঘটনাটি স্কুল এর নিচ তলার বারান্দায় হয়েছে। পরবর্তীতে, পূর্বশত্রুতার জেরে স্কুলের কয়েকজন শিক্ষক, প্রধান শিক্ষিকা ও স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা বিষয়টিকে ধর্ষণচেষ্টা হিসেবে সাজান এবং পুরো ঘটনাকে পরিবর্তন করেন যার সাথে বাস্তবের কোনো মিলই পাওয়া যায়নি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভুক্তভোগী পরিবারের এক সদস্য বলেন, “আমাদের যেভাবে যা বলতে বলা হয়েছে, আমরা সেভাবেই করেছি এবং থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।”
মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান জানান, ভুক্তভোগীর বাবার লিখিত অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে মামলা রেকর্ডের জন্য বাদীপক্ষকে থানায় আসতে বলা হলেও তারা আর যোগাযোগ করেননি। থানায় এলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষককে ইতোমধ্যে অন্য বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। ২৪ বছরের শিক্ষকতা জীবনে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির অধিকারী শিক্ষক মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে এমন ষড়যন্ত্রের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন স্থানীয় অভিভাবক ও বাসিন্দারা।মন্তব্য করুন
Design & Developed by BD IT HOST