
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
হরমুজ প্রণালি নিয়ে চলমান অস্থিরতা ও ইরানের বৃহত্তম জ্বালানি স্থাপনা খারগ দ্বীপে হামলার মধ্যেও লাখ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করছে ইরান। গার্ডিয়ানের খবর জানাচ্ছে, সামুদ্রিক ও বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত তেলবাহী ট্যাংকারসহ অন্তত ৯০টি বিভিন্ন ধরনের জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই ইরান ঘোষণা করেছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে তারা। যদিও তারা বলেছে, এই দুই দেশ ছাড়া বাকিদের জন্য হরমুজ প্রণালি খোলা ও নিরাপদ রয়েছে, তা সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালি দিয়ে খুব কম সংখ্যক বিদেশি জাহাজই চলাচল করছে। এ কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দেওয়ার পাশাপাশি রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে পণ্যটির দাম।
এপির খবর জানাচ্ছে, হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করা জাহাজ গুলোর বেশির ভাগই ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ পক্ষের মালিকানাধীন। এসব জাহাজের কোনো কোনোটি আবার পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার আওতাধীন। সম্প্রতি, ভারত ও পাকিস্তানের কয়েকটি জাহাজও হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে বলে খবর এসেছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার জন্য প্রয়োজনে নৌবাহিনীর পাহারা বসানোর পরিকল্পনাও করেছেন তিনি।
তবে সামরিক বাহিনীর পাহারায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চালানো কোনো স্থায়ী নিরাপত্তা কৌশল হতে পারে না বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও)। সংস্থাটির প্রধান আর্সেনিও ডোমিঙ্গেজ সম্প্রতি ফাইন্যানশিয়াল টাইমসকে বলেছেন, ‘এ ধরনের ব্যবস্থা শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে না। এটি হয়তো ঝুঁকি কমাতে পারে, কিন্তু পুরোপুরি শেষ করতে পারে না। বাণিজ্যিক জাহাজ ও নাবিকরা এরপরও নিশ্চিন্তে হরমুজ দিয়ে জাহাজ চালাতে পারবেন না।’
এদিকে হরমুজ প্রণালির সুরক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক নৌবাহিনীর জোট গঠনের আহ্বান জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই প্রস্তাবটি ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছ থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by BD IT HOST