নিউজ এডিটর
১৭ জুন ২০২৬, ১১:৫০ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

চিকিৎসা নাকি হয়রানি? ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক ভুক্তভোগী পরিবারের করুণ অভিজ্ঞতা

তসলিম সরকার  ময়মনসিংহ: “জীবন বাঁচানোর শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে হাসপাতালে গিয়েছিলাম, কিন্তু ফিরে এসেছি প্রিয়জনের লাশ নিয়ে”—কথাগুলো বলছিলেন এক ভুক্তভোগী স্বজন, যিনি গত ১২ জুন ২০২৬ তারিখে গুরুতর অসুস্থ খালুকে নিয়ে ছুটে গিয়েছিলেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। পরিবারটির অভিযোগ, অচেতন রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার পর থেকেই শুরু হয় একের পর এক ভোগান্তি। জরুরি বিভাগের রোগী হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। রোগীকে এক ওয়ার্ড থেকে অন্য ওয়ার্ডে নিতে হয়েছে ভাড়া করা ট্রলিতে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাওয়ার আগেই বিভিন্ন ধাপ পার হতে হয়েছে অসহায় পরিবারটিকে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, হাসপাতালের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কিছু কর্মচারীর অসহযোগিতামূলক আচরণ এবং অনানুষ্ঠানিক অর্থ দাবির মুখে পড়তে হয়েছে তাদের। রোগীর জন্য বেড বরাদ্দ, স্থানান্তর কিংবা অন্যান্য সেবার ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ তুলেছেন তারা। পরিবারটির ভাষ্যমতে, রোগীর শারীরিক অবস্থা ক্রমেই অবনতি হলেও একের পর এক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হয়। বহু রিপোর্ট স্বাভাবিক আসার পরও রোগীর অবস্থার দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি। পরে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হলেও সেখানেও নানা জটিলতা ও অতিরিক্ত ব্যয়ের মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্বজনরা। সবচেয়ে বেদনাদায়ক বিষয় হলো, চিকিৎসার জন্য দৌড়ঝাঁপ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধ, আনুষঙ্গিক খরচ এবং বিভিন্ন পর্যায়ের অনানুষ্ঠানিক ব্যয় মিলিয়ে প্রায় এক লাখ টাকার বেশি খরচ করার পরও শেষ পর্যন্ত রোগীকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। মাত্র এক রাতের ব্যবধানে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি। ভুক্তভোগী পরিবারের প্রশ্ন—যদি সত্যিই কোনো অবহেলা, অনিয়ম কিংবা দায়িত্বহীনতা ঘটে থাকে, তবে এর দায় কে নেবে? কার কাছে মিলবে এর বিচার? ঘটনার পর পরিবারটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান অনিয়ম, দালালচক্র, অনানুষ্ঠানিক অর্থ লেনদেন এবং রোগীসেবার মান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। একজন স্বজনের কণ্ঠে ছিল গভীর আক্ষেপ”আমরা হাসপাতালে গিয়েছিলাম একজন মানুষকে বাঁচানোর আশায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফিরতে হয়েছে তার নিথর দেহ নিয়ে। আমাদের কান্নার ভাষা নেই।” মৃত ব্যক্তির আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন স্বজনরা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের জন্য সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন। এখন প্রশ্ন একটাই—চিকিৎসাসেবা কি সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার হিসেবে নিশ্চিত হচ্ছে, নাকি অসহায় রোগী ও স্বজনদের জন্য তা পরিণত হচ্ছে সীমাহীন ভোগান্তির আরেক নাম?
Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ভোলা ​দৌলতখানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও ডেঙ্গু প্রতিরোধমূলক র‍্যালি অনুষ্ঠিত

১

আশুগঞ্জে মাহিদার ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মানববন্ধন

২

মদ পান করে ১৯ জনের মৃত্যু

৩

রাজকীয় ফ্যাশন ও লাইফস্টাইলে নতুন মাত্রা: নজরকাড়া ডিজাইনার রুমি করিম

৪

বিএমএসএস’র প্রতিষ্ঠাতা মরহুম খন্দকার আছিফুর রহমান তোতার রুহের মাগফিরাত কামনায় রাজশাহীতে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল

৫

সাংবাদিকদের অধিকার ও পেশাগত মানোন্নয়নে ইউনাইটেড জার্নালিস্ট সোসাইটি অব বাংলাদেশের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠিত

৬

কোটচাঁদপুরে হুমায়রার মৃত্যু নিয়ে রহস্য-আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড?

৭

মাহমুদপুর বাজারে সার বিতরণ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ: হাতাহাতি ও উত্তেজনার পর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

৮

সিলেটে দুর্বৃত্তদের নৃশংস হামলায় যুবক গুরুতর আহত

৯

উদ্বোধনের অপেক্ষায় দেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক

১০

গোয়াইনঘাটে দু’টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী

১১

স্থানীয় নির্বাচনের নতুন সময়সীমা জানালেন ইসি আনোয়ারুল

১২

শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে অডিও ফাঁস, গ্রেপ্তার সেই ওসি

১৩

কোটচাঁদপুরে ৩৯ পিস ইয়াবাসহ চা বিক্রেতা গ্রেপ্তার

১৪

চলতি ডিসেম্বরে স্হানীয় সরকার নির্বাচন হচ্ছে না-শাহে আলম

১৫

বিএমএসএস-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান খন্দকার আছিফুর রহমান তোতা আর নেই

১৬

নান্দিনায় শিশু শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগ, থানায় অভিযোগ দায়ের

১৭

১৮ মাস পর নিখোঁজ কিশোরী অপহরণ ও হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করলো সাইবার ক্রাইম

১৮

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার আব্দুর রউফ বদলি, নতুন এসপি জালাল উদ্দিন ফাহিম

১৯

কোটচাঁদপুর যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা শামছুলের খুঁটির জোর কোথায়

২০

Design & Developed by BD IT HOST