
দেওয়ানগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত কিন্তু পরবর্তীতে অপসারিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মুন্নী আক্তার তাঁর পদ পুনর্বহাল ও জনগণের ভোটের মর্যাদা রক্ষার দাবিতে এক আবেগঘন বক্তব্য দিয়েছেন।
তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে তাঁর অর্জিত জনপ্রতিনিধিত্বের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে, যা শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের মর্যাদার প্রশ্ন।
মুন্নী আক্তার জানান, সমাজের অবহেলা ও পারিবারিক বিচ্ছিন্নতার মধ্য দিয়ে তাঁর শৈশব কেটেছে। জীবনের এক পর্যায়ে ভিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করলেও তিনি সেই অবস্থান থেকে বেরিয়ে এসে সমাজের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সংকল্প নেন। সেই লক্ষ্যেই তিনি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেন এবং ২৩ হাজার ৭৬৮ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন।
তিনি বলেন, এই বিজয় কোনো রাজনৈতিক অনুগ্রহ নয়, বরং সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভালোবাসার প্রতিফলন। তাঁর মতে, এই সাফল্য তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের জন্য কর্মসংস্থান ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারত।
তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে তাঁকে অপসারণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর ভাষায়,আমি কোনো দুর্নীতি করিনি, কোনো অপরাধ করিনি। তবুও জনগণের ভোটে পাওয়া সম্মান কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তাঁকে অপসারণ করা মানে শুধু একজন জনপ্রতিনিধিকে সরানো নয়, বরং তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের প্রতি রাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতির প্রশ্নকে দুর্বল করা। তিনি রাষ্ট্রপ্রধান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ন্যায়বিচার চেয়ে বলেন, জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে তাঁর দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া উচিত।
মুন্নী আক্তার বর্তমানে হিজড়া মানব কল্যাণ সংস্থা’র সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, তাঁর ঘটনা দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়ে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করবে।
শেষে তিনি বলেন,আমি আবার মানুষের মাঝে ফিরতে চাই। আমি ভিক্ষার জীবনে নয়, মানুষের সেবার মধ্যেই বাঁচতে চাই।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by BD IT HOST