
স্পোর্টস ডেস্কঃ
আহমেবাদাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে ফাইনালে ভারত জিতেছে ৯৬ রানের বিশাল ব্যবধানে। ফাইনালে এটাই সর্বোচ্চ ব্যবধানে জয়ের রেকর্ড। এই বিশ্বকাপ জিতে অনেকগুলো প্রথমেও নাম লিখিয়েছে ভারত। প্রথম দল হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে বিশ্বকাপ ধরে রাখল তারা। প্রথম দল হিসেবে জিতল ঘরের মাঠে, এছাড়া এই সংস্করণে প্রথম দল হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে তিনটি শিরোপা হয়ে গেল তাদের।
আগে ব্যাটিং পেয়ে ৫ উইকেটে ২৫৫ রানের পাহাড় গড়ে স্বাগতিকরা। সুপার এইট, সেমিফাইনালের পর ফাইনালেও দলের হয়ে ৪৫ বলে সর্বোচ্চ ৮৯ করেন সঞ্জু স্যামসন।
রেকর্ড রান তাড়ায় নেমে দিশাহীন নিউজিল্যান্ড থেমেছে ১৫৯ রানে। বিশ্বের সেরা পেসার জাসপ্রিত বুমরাহ রানে ভরা উইকেটেও ৪ ওভারে ১৫ মাত্র রান দিয়ে নেন ৪ উইকেট। বুঝিয়ে দেন কেন তাকে মনে করা হয় সময়ের সেরা।
পাহাড়সম রেকর্ড রান তাড়ায় নেমে তৃতীয় ওভারেই তুরুপের তাস ফিন অ্যালেনের উইকেট হারিয়ে ফেলে নিউজিল্যান্ড। ক্রিজে দুই ডানহাতি দেখে অক্ষর প্যাটেলকে ডেকে আনেন সূর্যকুমার। আহমেদাবাদের ঘরের ছেলে ফাঁদ পেতে ছাঁটেন অ্যালেনকে। লং অনে বাউন্ডারি লাইনে ধরা দিয়ে বিদায় নেন তিনি। পরের ওভারে বল হাতে নিয়েই রাচিন রবীন্দ্রকে ফেরান বুমরাহ।
বিশ্বসেরা এই পেসারের বলে রান বের করতে হাঁসফাস খায় কিউইরা। সেই চাপ সরাতে গিয়ে গ্লেন ফিললস অক্ষরের বলে জায়গা বের করে মারতে গিয়ে বোল্ড। একদিনের টিম সেইফার্ট রান বাড়ালেও আরেক পাশে চলে আসা-যাওয়া। মার্ক চাপম্যান হার্দিক পান্ডিয়ার বল স্টাম্পে টেনে বোল্ড হন।
ফিফটির পর বাউন্ডারি লাইনে ধরা দেন সেইফার্টও। আইপিএলে তার কলকাতা নাইট রাইডার্স সতীর্থ বরুন চক্রবর্তীর বলে ইশান কিশানের দারুণ ভারসাম্যপূর্ণ ক্যাচে পরিণত হন তিনি। ২৬ বলে করে যান ৫২। ইশান এর আগে রাচিনের ক্যাচও জমিয়েছিলেন দারুণ দক্ষতায়।
৭২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে যেন অনেকটাই ছিটকে যায় কিউইরা।অধিনায়ক স্যান্টনার নেমে এরপর ব্যবধান কমিয়ে গেছেন, তাকে বেশি সঙ্গ দিতে পারেননি ড্যারেল মিচেল। অক্ষরের ফুলটসে ক্যাচ দিয়ে যান তিনিও।
নিজের দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে জিমি নিশাম, ম্যাট হেনরিকে পর পর দুই বলে বোল্ড করে হ্যাটট্রিকের সুযোগ তৈরি করেন বুমরাহ। সেটা না হলেও ম্যাচের পরিণতি ততক্ষণে সকলের জানা। বাকি আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়েছে।
এর আগে টস জিতে রান তাড়া সহজ হবে ভেবে ফিল্ডিং নিয়েছিলেন স্যান্টনার। ভুলটা বোধহয় সেখানেই করেছেন। ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব অবশ্য বলেছিলেন তিনি আগে ব্যাট করাতেই খুশি। টস ভাগ্য পক্ষে না এলেও বাকিটা সময় ব্যাট-বলের ঝলকে ভারত তা বুঝিয়ে দেয়।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এক ফিফটি ছাড়া বিবর্ণ থাকা অভিষেক ফাইনাল মঞ্চে উত্তাল হয়ে উঠেন, দারুণ সব শটের পসরায় মাত্র ১৮ বলে তুলে নেন ফিফটি, যা এই বিশ্বকাপের দ্রুততম। তার বিদায়ের পর ইশান কিশানকে নিয়ে মাত করতে থাকেন ভারতকে ফাইনালে আনার নায়ক স্যামসন।
স্যামসন অভিষেকের তান্ডবের সময়টাই নিজেকে গুটিয়ে রাখছিলেন, সেজন্য ফিফটি পেতে তার লেগে যায় ৩২ বল। কিন্তু এরপর যেন ধারণ করেন রৌদ্রমূর্তি। বাকি ৩৯ রান তুলেন স্রেফ ১৪ বলে! রাচিনকে টানা তিন ছক্কায় টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ছক্কার (২৪টি) রেকর্ডও তার হয়ে যায়, তাও স্রেফ ৫ ম্যাচ খেলে।
স্যামসন এদিনও ক্রিকেটীয় শটেই মোহগ্রস্থ করেন গ্যালারি। চিরায়ত ঢঙে অথরিটি নিয়ে কাভার ড্রাইভের সঙ্গে পুল আর ইয়র্কার বলে দুরন্ত ডেথ টাচে থার্ড ম্যান দিয়ে সীমানা পার। স্যামসনের হাতে নাগালেই ছিলো সেঞ্চুরি। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে তিনি তা বিসর্জন দিয়ে আসেন নিঃস্বার্থ তাড়নায়। নিশামের কোমরের সমান ফুলটস বল সীমানা পার করতে চেয়েছিলেন সোজা। বাউন্ডারি লাইনে অসামান্য ভারসাম্য রেখে সেই ক্যাচ লুফে নেন বদলি ফিল্ডার ম্যাকনকি। তার সঙ্গে দলকে চূড়ায় নেওয়ার আরেক কারিগর ইশান কিশান ২৫ বলে ৫৪ করে থামেন। শেষ দিকে শিভম দুবের ঝড় ভারতকে আআইশ পার করে নেয়। যে পুঁজির কাছে যাওয়ারও সাধ্য ছিলো না নিউজিল্যান্ডের।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by BD IT HOST