
মো নিশাদুল ইসলাম নিশাদ,ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ
সদর হাসপাতালে দালালচক্রবিরোধী বিশেষ অভিযান – দুই নারী দালাল আটক, পুলিশি গাফিলতিতে পালিয়ে যায়।
আজ দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে একটি বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে দুইজন নারী দালালকে হাতে–নাতে আটক করা হয়। তবে হাসপাতালের পুলিশ বক্সে মহিলা পুলিশ না থাকায় আটককৃত দালালরা দৌড়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়, যা অভিযানে অংশ নেওয়া সামাজিক সংগঠনগুলোর সদস্যদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন তরী বাংলাদেশ-এর আহবায়ক শামীম আহমেদ। সঙ্গে ছিলেন একই সংগঠনের আহবায়ক কমিটির সদস্য সোহেল রানা ভূইয়া, ঐক্যবদ্ধ সদর ব্রাহ্মণবাড়িয়া-এর আহবায়ক মোঃ সাবের হোসেন, এবং Care for Streets and Wildlife Brahmanbaria-এর কার্যকরী সদস্য তাসিন আরাফাত তন্ময়সহ আরও অনেকে।
দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে অভিযানে অংশগ্রহণকারীরা দুই নারী দালালকে রোগীদের সাথে অবৈধ লেনদেন করতে দেখে তাৎক্ষণিকভাবে ধরে ফেলেন। উপস্থিত কয়েকজন ভুক্তভোগী রোগীও তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য ও প্রমাণ উপস্থাপন করেন। রোগীরা জানান, এই দালাল চক্র নাজ হসপিটালে রোগী রেফার করে অবৈধভাবে অর্থ হাতিয়ে নেয় এবং বিশেষ করে গরিব রোগীদের নিঃস্ব করে দেয়।
অভিযান পরিচালনাকারীরা অভিযোগ করেন— হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দালালচক্র দমনে কোনো কার্যকর ভূমিকা পালন করছে না। বরং দালালচক্র দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতাল এলাকায় সক্রিয় রয়েছে। অন্যদিকে, পুলিশ বক্সের পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব এড়িয়ে বলেন, “দালাল ধরা নাকি তাদের কাজ নয়।” মহিলা পুলিশ না থাকায় দালালদের পলায়ন করা—এই ব্যর্থতার বড় উদাহরণ বলে অভিযানে থাকা সংগঠনগুলোর সদস্যরা মন্তব্য করেন।
সামাজিক সংগঠনগুলোর দাবি,হাসপাতাল এলাকায় স্থায়ীভাবে মহিলা পুলিশ নিয়োগ,দালালচক্রের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান,
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কঠোর মনিটরিং এবং সাধারণ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও সুষ্ঠু সেবা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা জরুরি।
তারা জানান, অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং হাসপাতালকে দালালমুক্ত করতে যে কোনো পরিস্থিতিতে নাগরিক সমাজ মাঠে থাকবে।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by BD IT HOST