
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
মাদক আজ এই নগরীর জন্য কেবল একটি সামাজিক সমস্যা নয়—এটি রীতিমতো এক ভয়াবহ সংকটে রূপ নিয়েছে। জনবহুল এলাকা, আবাসিক পাড়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশ—সবখানেই প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে মাদকের কারবার চলছে বলে অভিযোগ উঠছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এসব কর্মকাণ্ড এমনভাবে বিস্তার লাভ করেছে যে সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তুলতে বাধ্য হচ্ছেন—তবে কি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার চোখের সামনেই এই অবৈধ বাণিজ্য ফুলেফেঁপে উঠছে?
যুবসমাজ আজ নেশার করাল গ্রাসে বিপন্ন। হাতের নাগালে ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন নেশাজাতীয় দ্রব্য পাওয়া যাচ্ছে—এমন বাস্তবতা কোনোভাবেই স্বাভাবিক হতে পারে না। কিশোর ও তরুণদের টার্গেট করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয়—এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অথচ দৃশ্যমান ও ধারাবাহিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা কোথায়—সেই প্রশ্ন এখন সর্বত্র।
মাদক শুধু ব্যক্তিকে ধ্বংস করে না; এটি পরিবার ভেঙে দেয়, অপরাধ বাড়ায়, সামাজিক স্থিতি নষ্ট করে। ছিনতাই, চুরি, সহিংসতা—এসব অপরাধের পেছনে মাদকের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। একদিকে উন্নয়নের অগ্রযাত্রা, অন্যদিকে তরুণ প্রজন্মের অবক্ষয়—এই দ্বৈত বাস্তবতা কোনো সভ্য সমাজ মেনে নিতে পারে না।
জনমনে এখন জোরালো প্রশ্ন—মাদক ব্যবসায়ীরা এতটা বেপরোয়া হয়ে ওঠার সাহস কোথা থেকে পায়? নিয়মিত ও দৃশ্যমান অভিযান না থাকলে, অথবা তদারকিতে শৈথিল্য দেখা দিলে অপরাধচক্র আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে—এটাই বাস্তবতা। তাই দায় এড়ানোর সুযোগ নেই কারও। কঠোর নজরদারি, নিয়মিত অভিযান, জবাবদিহিতা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই হবে।
এখন সময় কঠোর অবস্থান নেওয়ার। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে আরও সক্রিয়, দৃঢ় ও নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখতে হবে। পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে, পরিবারকে হতে হবে আরও সতর্ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নিতে হবে প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ। অন্যথায় মাদকের এই বিষবৃক্ষ শেকড় গেড়ে বসবে আরও গভীরে—আর তার মাশুল দিতে হবে পুরো সমাজকেই।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by BD IT HOST