
মানিকগঞ্জ জেলা শহরে একটি বিউটি পার্লারের কর্মীকে অনৈতিক কাজে বাধ্য ও মারধর করে চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পার্লারের মালিকসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে।
রবিবার (১৫ মার্চ) এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে মানিকগঞ্জ সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ইতোমধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, মানিকগঞ্জ সদর থানাধীন পশ্চিম বান্দুটিয়া এলাকার এলজিইডি কার্যালয়ের পশ্চিম পাশে অবস্থিত ‘রাইসা বিউটি ঘর’ নামের একটি বিউটি পার্লারে কাজ করতেন ভুক্তভোগী তরুণী।
মামলার এজাহারে ভুক্তভোগী তরুণী অভিযোগ করেন, পার্লারটির মালিক রত্না ইয়াছমিন ব্যবসার আড়ালে কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে সেখানে দেহব্যবসা পরিচালনা করতেন। তিনি ওই পার্লারে চাকরি করার সুবাদে তাকে জোরপূর্বক দেহব্যবসায় যুক্ত করার জন্য চাপ দেওয়া হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১১ মার্চ তার ১৩ বছর বয়সী ছোট বোন উত্তর সেওতা এলাকার ভাড়া বাসায় বেড়াতে আসে। বিষয়টি জানার পর অভিযুক্তরা তার বোনকেও দেহব্যবসায় যুক্ত করার প্রস্তাব দেয়। এতে তিনি রাজি না হওয়ায় শুক্রবার (১৩ মার্চ) দিবাগত রাত ১টার দিকে অভিযুক্তরা তার বাসায় গিয়ে আবারও তাকে ও তার বোনকে একই প্রস্তাব দেয়।
এ সময় তিনি রাজি না হলে অভিযুক্তরা তাকে মারধর শুরু করে এবং পরে জোর করে পার্লারে নিয়ে আটকে রাখে। সেখানে আবারও দেহব্যবসায় রাজি করানোর চেষ্টা করা হয়। ভুক্তভোগী রাজি না হলে তাকে লোহার রড দিয়ে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া তাকে লোহার শিকল দিয়ে আটকে রাখা হয় এবং ওড়না দিয়ে হাত বেঁধে নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে পার্লারে ব্যবহৃত কাঁচি দিয়ে তার মাথার চুল কেটে দেওয়া হয় এবং মুখমণ্ডলে কালো কালি লাগিয়ে অপমান করা হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
পরে তার বন্ধু সাথী ও সাবিনা বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে এবং পার্লার মালিক রত্না ইয়াছমিনসহ তিনজনকে হেফাজতে নেয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অন্য অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। পরে আহত তরুণীকে চিকিৎসার জন্য মানিকগঞ্জের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এ ঘটনায় শনিবার (১৪ মার্চ) সন্ধ্যার পর তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। পরে যাচাই-বাছাই শেষে রোববার (১৫ মার্চ) সকালে অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকরাম হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by BD IT HOST