
আল আমিন গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি : হাতে কলম আর প্যাড যার নিত্য সঙ্গী, খবরের পিছনে ছুটে চলা যাদের দৈনন্দিন বিষয়। সেই ব্যস্ত মানুষ এখন ফসলের মাঠে। সবুজের সমারোহ ভরে উঠেছে তার রোপিত বোরোধনে ক্ষেত। তিনি কাওসার আহমদ রাহাত। পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে কাজ করা রাহাত এবার নিজেকে কৃষক হিসেবে মেলে ধরেছেন তিনি। স্হানীয়,,,,, হাওরে,,,, বিঘা জমিতে বোরোধান লাগিয়েছেন।
পেশায় একজন সাংবাদিক, তবুও কৃষির প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকে সাফল্যের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন কাওছার আহমেদ রাহাত। সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ডৌবাড়ী ইউনিয়নের বোগা হাওরের বিস্তীর্ণ সবুজ প্রান্তরে তিনি প্রায় ২০ কাঠা জমিতে বোরো ধান চাষ করে পেয়েছেন ঈর্ষণীয় সাফল্য।
জানা যায়, উপজেলার ঘোষগ্রাম গ্রামের এই উদ্যোগী তরুণ দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও কৃষিকে কখনো অবহেলা করেননি। আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি, সময়মতো সার প্রয়োগ এবং উন্নত সেচ ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি ফসলের যত্ন নিশ্চিত করেছেন সঠিক পরিচর্যা। ফলে এ বছর তার জমিতে ধানের ফলন হয়েছে অত্যন্ত ভালো।
বর্তমানে তার ক্ষেতজুড়ে পেকে উঠেছে সোনালী ধান। শীষে শীষে ভরা ফসলের মাঠ দেখে তিনি যেমন আনন্দিত, তেমনি ভবিষ্যৎ নিয়েও আশাবাদী।
কাওছার আহমেদ রাহাত বলেন, শত ব্যস্ততার মাঝেও কৃষিকে আমি ভালোবাসি। কৃষি জমিতে কাজ করলে যে তৃপ্তি পাওয়া যায়, তা অন্য কোথাও নেই। আল্লাহর রহমতে এ বছর ফলন খুবই ভালো হয়েছে। কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে নিশ্চিন্তে ফসল ঘরে তুলতে পারবো।
স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসীরা জানান, একজন সাংবাদিক হয়েও এভাবে কৃষিতে সময় দিয়ে সফলতা অর্জন করা সত্যিই প্রশংসনীয়। তার এই উদ্যোগ অনেক তরুণকে কৃষির প্রতি আগ্রহী করে তুলবে বলে তারা মনে করেন।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষির গুরুত্ব অপরিসীম। সমাজের বিভিন্ন পেশার মানুষ যদি কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়, তবে তা জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
গোয়াইনঘাট উপজেলার এই কৃষক-সাংবাদিকের সাফল্যের গল্প শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি কৃষির প্রতি ভালোবাসা, পরিশ্রম ও আত্মনির্ভরতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by BD IT HOST