
হরিরামপুর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি:জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সরকারি নির্দেশনা থাকলেও মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে গুরুত্বপূর্ণ দুটি সরকারি স্থাপনায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। আজ শনিবার (৭ নভেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়।মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বিধি শাখার গত ২ নভেম্বর ২০২৬ তারিখের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।তবে সরেজমিনে দেখা যায়, জেলা পরিষদ মানিকগঞ্জের অধীন হরিরামপুর ডাকবাংলোর প্রধান ফটক তালাবদ্ধ রয়েছে এবং সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত কেয়ারটেকার মো. মিন্নু মিয়াকে পাওয়া যায়নি। প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের কোনো চিহ্নও ছিল না। অন্যদিকে, হরিরামপুর মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনটিও তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। এ ভবনের অস্থায়ী কেয়ারটেকার মো. আক্তার মিয়াকেও উপস্থিত পাওয়া যায়নি এবং মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।একটি জাতীয় দিবসে সরকারি নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে পতাকা না তোলায় স্থানীয় সচেতন মহলে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।এ বিষয়ে খানবাহাদুর আওলাদ হোসেন খান কলেজের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সাইফুদ্দিন আহমেদ নান্নু বলেন, “জাতীয় পতাকা হলো দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক। নির্ধারিত দিবসে পতাকা না তোলা বা অবহেলা করা মানে জাতীয় মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করা। তাই আইন অনুসারে এটি নিয়মিত পালন করা উচিত।”এ বিষয়ে হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আক্তারের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।তবে জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট জামিলুর রশিদ খান মুঠোফোনে বলেন, “আমি বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারলাম। বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করছি।”এদিকে জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা জানিয়েছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছেন। জাতীয় পতাকার মর্যাদা রক্ষা ও সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে দায়িত্বপ্রাপ্তদের এই অবহেলার সঠিক তদন্তপূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।মন্তব্য করুন
Design & Developed by BD IT HOST