

ভোলার লালমোহন উপজেলায় কোনো ধরনের টেন্ডার বা প্রশাসনিক অনুমতি ছাড়াই রাস্তার পাশের চার শতাধিক সরকারি গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রমাগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে দিন-রাত এসব গাছ কেটে স্থানীয় এক নেতার করাতকল, মাঠ ও বাগানে মজুদ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বন বিভাগ ও প্রশাসনের নাকের ডগায় এমন ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত জসিম উদ্দিন রাজনৈতিক ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না এলাকাবাসী। তবে প্রশাসনের এমন নিষ্ক্রিয় ভূমিকায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে স্থানীয় সচেতন মহল।
বুধবার দুপুরে লালমোহন উপজেলার কর্তারহাট বাজার থেকে রায়চাঁদ সড়ক ধরে সামনে এগোতেই চোখে পড়ে গাছ কাটার মহোৎসব। রাস্তার দুই পাশে পড়ে রয়েছে অসংখ্য গাছের গুঁড়ি। সদ্য কেটে নেওয়া শত শত গাছের গোড়া এখনো দৃশ্যমান। কর্তারহাট থেকে পূর্ব দিকে রায়চাঁদ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে গাছ কাটার অসংখ্য চিহ্ন দেখা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা খোরশেদ আলম জানান, গত কয়েক দিন ধরে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা ধরে এসব গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে। বড় বড় এক্সকাভেটর (ভেকু) দিয়ে পুরো গাছ শিকড়সহ তুলে ফেলা হয়েছে। কে বা কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা এলাকার সবাই জানলেও ভয়ে কেউ মুখ খুলতে চাচ্ছেন না।
কর্তারহাট বাজারের পূর্ব পাশের একটি করাতকলে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে সদ্য কাটা গাছের বড় বড় স্তূপ। এর মধ্যে মেহগনি, রেইনট্রি ও চাম্বুল গাছের সংখ্যাই বেশি। স্থানীয়রা জানান, রমাগঞ্জ ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সাবেক সভাপতি মো. শাহাবুদ্দিনের ওই করাতকল ছাড়াও পাশের মাঠ এবং বাগানের ভেতরেও বিপুলসংখ্যক গাছের গুঁড়ি স্তূপ করে রাখা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, কোনো ধরনের সরকারি অনুমোদন বা টেন্ডার ছাড়াই রমাগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন এসব গাছ কেটেছেন।
এর আগে অক্টোবর মাসের শুরুর দিকে রাস্তা সংস্কারের কথা বলে ১০-১৫টি গাছ কাটা হয়। পরবর্তীতে গত সপ্তাহ থেকে এক্সকাভেটর মেশিন দিয়ে দিন-রাত প্রায় চার শতাধিক গাছ কেটে রায়চাঁদ বাজারে মজুদ করা হয়।
এদিকে, প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে আসছেন—এমন খবর পেয়ে করাতকলের মালিক তালা মেরে আত্মগোপনে চলে যান। এ সময় করাতকলের মালিকের ছেলে মো. মনিরের সঙ্গে কথা হলে তিনি করাতকলের মালিকানার বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং গাছ কাটার সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন। তবে উপস্থিত এলাকাবাসীর দাবি, যুবদল নেতা জসিম উদ্দিনের কাছ থেকে মনির ওই গাছগুলো কিনে নিয়েছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by BD IT HOST