
রাজনীতিতে কোনো পচন ধরেনি, পচন ধরেছে মানুষের মানসিকতায়। রাজনীতির অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ও সামাজিক অস্থিতিশীলতার জন্য সাধারণ মানুষ কোনোভাবেই দায়ী নয়; বরং রাজনীতির উচ্চপর্যায়ের কিছু স্বার্থান্বেষী মহলের ভুল যুক্তি ও অপকৌশলের কারণে জনগণ আজ বিভক্ত হয়ে অস্থিরতায় ভুগছে।
ইউরোপ আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন ও সাংগঠনিক কাঠামোর উদাহরণ তুলে ধরে জানা যায়, আদর্শহীন পদ-পদবি বাণিজ্য এবং অসাংগঠনিক কর্মকাণ্ড আজ সমাজ ও রাজনীতির মূল নীতি ও আদর্শকে বিনষ্ট করছে।
আমাদের সমাজব্যবস্থায় পাশ্চাত্যের উন্নত জীবনযাত্রাকে অন্ধভাবে অনুসরণের একটি প্রবণতা তৈরি হয়েছে। উন্নত জীবনের আকাঙ্ক্ষায় দ্রুত ও সহজে অর্থ উপার্জনের জন্য অনেকেই বেছে নিচ্ছেন অনৈতিক পথ। বর্তমানে দ্রুত বিত্তশালী হওয়ার অন্যতম সহজ মাধ্যম হিসেবে রাজনীতিকে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা রাজনৈতিক নৈতিকতাকে চরম হুমকির মুখে ফেলছে। যদিও এর মাঝে বহু ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ নেতা-কর্মীদের অবদান অনস্বীকার্য।
ছাত্র রাজনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানানো হয়, অধিকাংশ শিক্ষার্থী হলে একটি সিটের আশায় কিংবা বড় ভাইদের দাপুটে জীবনযাপন দেখে অসুস্থ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়ে ছাত্র রাজনীতিতে যুক্ত হয়। পরবর্তীতে এসব সহজ-সরল শিক্ষার্থীদের মগজ ধোলাই করে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে ফেলা হচ্ছে, যার ফলে অনেকেই পরবর্তীতে দাগী অপরাধী ও উর্ধ্বতনদের আজ্ঞাবহ দাসে পরিণত হচ্ছে।
আয়ারল্যান্ডের মতো উন্নত দেশগুলো মেধা, মননশীলতা ও কঠোর পরিশ্রমে আধুনিক হলেও, আমাদের এখানে আধুনিকতার নামে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দালালি ও ঘুষের সংস্কৃতি বিস্তার লাভ করছে। আমলাতন্ত্র ও স্বার্থান্বেষী তৃতীয় পক্ষের প্রভাব সমাজ ও রাজনীতির পচনকে এমন পর্যায়ে নিয়ে গেছে যে আজ শিক্ষকের কাছেও ছাত্র চাঁদা দাবি করার মতো দুঃসাহস দেখাচ্ছে।
এই পচা-গলা রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশ পরিচ্ছন্ন করতে শক্তিশালী ও গঠনমূলক একটি আদর্শিক দল গড়ে তোলা জরুরি। একমাত্র শুদ্ধতা ও নৈতিকতাকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করেই এই পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by BD IT HOST