
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ভেজাল, মেয়াদোত্তীর্ণ ও অনিবন্ধিত ঔষধ বিক্রয় রোধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) পরিচালিত অভিযানে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় তিনটি ফার্মেসিকে জরিমানা করা হয়েছে এবং বিভিন্ন ধরনের অবৈধ ও নিষিদ্ধ ওষুধ জব্দ করা হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, জেলা শহরের ব্যস্ত বাসস্ট্যান্ড এলাকায় প্রায় ৭-৮টি ফার্মেসিতে এ অভিযান চালানো হয়। জেলা প্রশাসন, ঔষধ প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সমন্বয়ে পরিচালিত এ কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাইশা মালিহা। এ সময় জেলা ঔষধ প্রশাসনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন কর্মকর্তা মো. ফয়সাল ফুয়াদ চৌধুরী।
অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল ভেজাল, মেয়াদোত্তীর্ণ, নিবন্ধনবিহীন ও সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ওষুধ বিক্রয় বন্ধ করা। পাশাপাশি প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি এবং ফিজিশিয়ান স্যাম্পল বাজারজাতকরণের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
ড্রাগ অ্যাক্ট লঙ্ঘনের দায়ে তিনটি ফার্মেসিকে মোট প্রায় ৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার প্রধান কারণ ছিল মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি এবং ফিজিশিয়ান স্যাম্পল বিক্রয়ের মতো অনিয়ম।এছাড়া ৫-৬ প্রকারের অনিবন্ধিত ও নিষিদ্ধ ওষুধ জব্দ করা হয়, যার মধ্যে কিছু জীবনরক্ষাকারী ওষুধও ছিল।
উল্লেখ্য, গত ৩ এপ্রিল ‘জাতীয় দৈনিক সরেজমিন বার্তা’-এ “মানিকগঞ্জে ভেজাল ঔষধের দৌরাত্ম্য: প্রতারণার ফাঁদে রোগীরা” শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনের পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেয় প্রশাসন। এরই ধারাবাহিকতায় মাঠ পর্যায়ে নজরদারি জোরদার করে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এ বিষয়ে জেলা ঔষধ প্রশাসনের কর্মকর্তা মো. ফয়সাল ফুয়াদ চৌধুরী বলেন, “ভেজাল ও নিম্নমানের ঔষধের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। ফার্মেসি মালিকদের সচেতন করতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দেওয়া হচ্ছে।”
নিয়মিত তদারকি, আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ভেজাল ওষুধের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব বলে মনে করেন স্বাস্থ্যসচেতন মহল।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by BD IT HOST