বিনোদন ডেস্কঃ
নব্বই দশকের শেষভাগে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে যখন নতুনত্বের জোয়ার আসছিল, ঠিক তখন রূপালি পর্দায় আবির্ভাব ঘটেছিল শাকিল খান ও তামান্না জুটির। তাঁদের জুটির প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল তারুণ্যের সতেজতা এবং এক ধরণের মিষ্টি রোমান্টিক আবেদন, যা খুব দ্রুতই দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছিল।
অভিনয় দক্ষতা ও রসায়ন: শাকিল খান তাঁর ক্যারিয়ারের শুরুতেই ‘আমার ঘর আমার বেহেশত’ সিনেমার মাধ্যমে নিজেকে একজন জনপ্রিয় নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। তাঁর স্নিগ্ধ চেহারা এবং সহজ-সরল অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল। অন্যদিকে, তামান্না ছিলেন সেই সময়ের অন্যতম সুন্দরী ও প্রতিভাবান অভিনেত্রী। এই জুটির সবচাইতে সফল সিনেমাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ‘হৃদয়ে লেখা নাম’। পর্দায় তাঁদের অভিনয় দক্ষতার চাইতে তাঁদের মধ্যকার কেমিস্ট্রি বা রসায়ন বেশি আলোচিত ছিল। তামান্নার চঞ্চলতা আর শাকিল খানের শান্ত গাম্ভীর্য—এই দুইয়ের সংমিশ্রণ পর্দায় এক চমৎকার ছন্দ তৈরি করত। গ্রামীণ প্রেক্ষাপট হোক কিংবা শহুরে রোমান্টিক গল্প, দুজনেই নিজেদের চরিত্রে বেশ সাবলীল ছিলেন।
জনপ্রিয়তা ও প্রভাব: তৎকালীন সময়ে শাকিল খান ও তামান্না জুটির জনপ্রিয়তা ছিল আকাশচুম্বী। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে তাঁরা ছিলেন পছন্দের রোমান্টিক জুটি। তাঁদের সিনেমার গানগুলো সেই সময়ে মানুষের মুখে মুখে ফিরত। যদিও তাঁরা একসাথে খুব বেশি সিনেমায় কাজ করেননি, কিন্তু যে কটি কাজ করেছেন তার বেশিরভাগই দর্শকদের মনে দাগ কেটে আছে। তামান্না এক পর্যায়ে অভিনয় জগত থেকে বিদায় নিয়ে প্রবাসে থিতু হলেও, শাকিল খানের সাথে তাঁর সেই পুরনো সিনেমাগুলো আজও বিটিভিতে বা ইউটিউবে দর্শকরা আগ্রহ নিয়ে দেখেন।
পরবর্তীতে শাকিল খান পপি কিংবা শাবনূরের সাথেও সফল জুটি গড়েছিলেন, কিন্তু তামান্নার সাথে তাঁর শুরুটা ছিল এক অন্যরকম আবেগের নাম। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের সোনালী সময়ের ইতিহাসে এই জুটি সবসময় এক টুকরো রঙিন স্মৃতি হয়ে থাকবে।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by BD IT HOST