
গোয়াইনঘাট (সিলেট) প্রতিনিধি:
সিলেটের তামাবিল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের সাথে অনুমোদিত বা বৈধ পণ্য আমদানির আড়ালে বিশাল অঙ্কের রাজস্ব ফাঁকির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পাথর ও কয়লা আমদানির জন্য পরিচিত এই বন্দর দিয়ে ৩০ টনেরও বেশি ভারতীয় দামি শাড়ি, লেহেঙ্গা ও বিভিন্ন ধরনের প্রসাধনী নিয়ে আসা হলেও যথাযথ ট্যাক্স বা শুল্ক আদায় ছাড়াই এসব পণ্য ছাড় দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগে প্রকাশ, সীমান্ত পেরিয়ে আসা একাধিক ট্রকে অনুমোদিত পণ্যের সাথে কিংবা পৃথক চালানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় লেহেঙ্গা, থ্রি-পিস, দামি শাড়ি ও কসমেটিকস সামগ্রী বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। এসব উচ্চ শুল্কযুক্ত পণ্যে নিয়ম অনুযায়ী ভারী ট্যাক্স ধার্য করার কথা থাকলেও অসাধু চক্রের সহায়তায় কোনো প্রকার রাজস্ব পরিশোধ না করেই বন্দর থেকে মালামাল খালাস করে নেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি ট্রকে ৩০ টনেরও বেশি ওজনের এসব পন্য নিয়ে আসা হলেও কাস্টমস বা শুল্ক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিষয়টি রহস্যজনকভাবে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, এই প্রক্রিয়ার কারণে সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, নিয়ম মেনে বৈধ উপায়ে শুল্ক দিয়ে যারা কাপড় ও প্রসাধনী আমদানি করছেন, তারা বাজার প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছেন না। কতিপয় অসাধু আমদানিকারক ও সংশ্লিষ্ট কাস্টমস কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশেই এমন শুল্ক ফাঁকির ঘটনা ঘটছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় পরিবহন খাত ও সচেতন মহল ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তারা জানান, উচ্চমূল্যের বিলাসবহুল পণ্য এভাবে ট্যাক্স ছাড়া খালাস পাওয়ায় কাস্টমস বিভাগের নজরদারি নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে তামাবিল শুল্ক ও স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, বন্দর দিয়ে আসা প্রতিটি চালান কায়িক পরীক্ষা ও ওজন স্কেলের মাধ্যমে যাচাই করা হয়। নির্ধারিত নিয়মের বাইরে বা শুল্ক ফাঁকি দিয়ে কোনো পণ্য খালাসের সুযোগ নেই। তবে এ ধরনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে কঠোর তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকারের রাজস্ব রক্ষা এবং স্থলবন্দরে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে অনতিবিলম্বে এ বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by BD IT HOST