নিজস্ব সংবাদদাতা, সরিষাবাড়ী (জামালপুর):
দীর্ঘ প্রায় ৭ মাস (২১৬ দিন) গ্যাস সংকট ও যান্ত্রিক জটিলতায় বন্ধ থাকার পর অবশেষে পুনরায় উৎপাদনে ফেরার প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করেছে জামালপুরের সরিষাবাড়ীর তারাকান্দিতে অবস্থিত এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ ইউরিয়া সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড’ (জেএফসিএল)। তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি কারখানায় প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ শুরু করায় ইতিমধ্যেই কারখানার স্টার্ট-আপ (Start-Up) কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। প্রাথমিক সকল ধাপ ও টেকনিক্যাল ট্রায়াল সফল হলে আগামী ৮ থেকে ১০ দিনের মধ্যে অর্থাৎ আগামী সপ্তাহের মধ্যেই পুরোদমে বাণিজ্যিক ইউরিয়া সার উৎপাদন শুরু হবে বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।
যমুনা সার কারখানার প্রতিদিন প্রায় ১,৭০০ মেট্রিক টন দানাদার ইউরিয়া সার উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। দীর্ঘ দিন কারখানাটি বন্ধ থাকায় জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইলসহ উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের ১৯টি জেলার প্রায় ২,৫০০ নিবন্ধিত ডিলার এবং কোটি কোটি কৃষক সার সংকটের আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছিলেন। কারখানা চালু হওয়ার প্রক্রিয়ায় এখন এসব অঞ্চলের কৃষক ও ডিলারদের মাঝে স্বস্তি ও আনন্দের সঞ্চার হয়েছে।
উৎপাদন বন্ধ থাকায় এই কারখানার ওপর নির্ভরশীল হাজার হাজার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ শ্রমিক-কর্মচারী চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছিলেন। কারখানা চালুর উদ্যোগে তাঁদের মধ্যে কর্মচাঞ্চল্য ও উদ্দীপনা ফিরে এসেছে। কারখানাটি দ্রুত চালুর ক্ষেত্রে নিরবচ্ছিন্ন তদারকি ও কার্যকর ভূমিকার জন্য স্থানীয় জনগণ, ডিলার সমিতি এবং শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে সরিষাবাড়ীর সংসদ সদস্য ফরিদুল কবির তালুকদার শামীমকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে।
কারখানার প্রশাসন ও উৎপাদন শাখার দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, “মূলত গ্যাস সংকটের কারণেই উৎপাদন স্থগিত রাখা হয়েছিল। বর্তমানে তিতাস গ্যাসের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় চাপ বজায় রেখে সংযোগ প্রদান করায় আমরা স্টার্ট-আপ প্রক্রিয়া শুরু করতে পেরেছি। এই গ্যাস সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন থাকলে আসন্ন ইরি-বোরো মৌসুমে চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ করা সম্ভব হবে।”মন্তব্য করুন
Design & Developed by BD IT HOST