
অনলাইন ডেস্কঃ
সিলেটের সীমান্তবর্তী গোয়াইনঘাট উপজেলায় সরকারি নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করে নদী জুড়ে চলছে অবৈধ বালু ও পাথর লুটের রাজত্ব। লিজ চুক্তি অনুযায়ী মাত্র ৮৮.৭৮ একর এলাকায় বালুমহাল বরাদ্দ থাকলেও সিন্ডিকেটটি পুরো উপজেলার প্রায় ১১০ কিলোমিটার জুড়ে নদীপথে এই তাণ্ডব চালাচ্ছে। ইজারার শর্ত ভেঙে দিন-রাত নিষিদ্ধ ড্রেজার, পাম্প ও বোমা মেশিন ব্যবহারের ফলে পিয়াইন ও ডাউকি নদীর তীরবর্তী এলাকার ঘরবাড়ি, মসজিদ, কবরস্থান ও রাস্তাঘাট আজ অন্তত তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভয়াবহ ভাঙনের মুখে পড়েছে।
ইজারাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আব্দুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে স্থানীয় ও জেলা পর্যায়ের ৪৩ জন রাজনৈতিক নেতাকে অংশীদার করে এই শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। নির্ধারিত ১ টাকা ৭১ পয়সার পরিবর্তে ট্রাক ও নৌকা প্রতি ৪ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত রয়্যালটি আদায়ের জেরে একাধিক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।
এদিকে অবৈধ এই বালু উত্তোলন টিকিয়ে রাখতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নামে নিয়মিত টাকা দিয়ে ম্যানেজ করার চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস হয়েছে। ১৬ জুলাই ২০২৫-এর একটি তালিকা অনুযায়ী, শুধু সাংবাদিকদের নাম ভাঙিয়ে ও বিভিন্ন কোডে প্রতি সপ্তাহে ১৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা চাঁদা হিসেবে বরাদ্দ দেওয়া হতো। উপজেলা প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা এবং পুলিশ প্রশাসনের কতিপয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মাসোহারা নেওয়ার অভিযোগ উঠলেও থামেনি এই অবৈধ কার্যক্রম। বাধ্য হয়ে এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীরা উচ্চ আদালতে রিট এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন এবং দ্রুত প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও মন্ত্রীর কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
সুএ- রাইজিং সিলেট
মন্তব্য করুন
Design & Developed by BD IT HOST