
লেখক ও কলামিস্টঃ ইকবাল আহমেদ লিটন
কোটা-আন্দোলনের একজন সমন্বয়ক শিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি— এই তথ্য আবিষ্কৃত হওয়ায় আওয়ামী লীগের উল্লাসে নাচার কোনো কারণ নেই। আমি এক্ষেত্রে শিবিরের নেতা কর্মীদের শুভেচ্ছা জানাই তাদের দীর্ঘ দিনের ধারাবাহিক সুপরিকল্পনা ও তার সফল বাস্তবায়ন করতে পারার জন্য। পাশাপাশি আওয়ামী শীর্ষ নেতাদের ধীক্ষার জানাই তাদের কালো চশমা পড়ে ভুল রাজনীতি ও দুর্নীতির জন্য।
চোখে কালো চশমা পরে নায়ক সাজার সুযোগ নেই । নিজেদের ন্যাক্কারজনক দুর্নীতির সুযোগেই দলের শীর্ষ নেতারা দেশব্যাপী বিভিন্ন কমিটিতে মোটা অংকের ঘুষের বিনিময়ে পদ বিক্রয় করেছে শিবিরের ছাত্র নেতাদের নিকট।
শিবিরের একজন জলজ্যান্ত নেতা অন্য সমন্বয়কদের পাশে বসে প্রকাশ্যে সাংবাদিক সম্মেলন করলো, সরকার পতন আন্দোলনে প্রকাশ্যে নেতৃত্ব দিলো, এর ভিডিও দেশব্যাপী গণমাধ্যমে প্রচারিত হলো; কিন্তু বিশাল বড় ছাত্রসংগঠন’ বাংলাদেশ ছাত্রলীগ জানলই না সেই ছেলেটা (অত্যন্ত দুরদর্শী, বুদ্ধিমান, দক্ষ, বিচক্ষন ও সফল) তাদের প্রধান প্রতিপক্ষ ছাত্র শিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি। এতগুলো করিৎকর্মা গোয়েন্দা সংস্থাও জানে না শিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি কে— শ্রেফ এজন্য ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ও নেতাদের পালিয়ে যাওয়া অনিবার্য ছিলো। যেমন কর্ম তেমন ফল।
আওয়ামী লীগ সরকারের মদদপুষ্ট তৎকালীন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কর্মকর্তাদের, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতাদের উচিত বিশাল দুর্নীতি ও ঘুষ খেয়ে শিবিরের নেতাদের নিকট দলীয় পদ বিক্রয়ের জন্য দেশবাসীর নিকট প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া ও নিজেদের দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করা।
এক সমন্বয়ক যেহেতু শিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি, সেহেতু অন্যরাও শিবিরেরই এবং এরাই আবার ছাত্রলীগের বিভিন্ন কমিটিতেও ছিল। আগের কোটা-আন্দোলনের নেতা নুরুল হক নুরও মুহসিন হল ছাত্রলীগের পদধারী ছিল। শিবিরের ছেলেরা ছাত্রলীগে কীভাবে ঢুকেছিল, ঢুকে কীভাবে পদ-পদবি বাগিয়েছিল এবং অবলীলায় কীভাবে পরিচয় গোপন করে ছিল, সারা দেশের মানুষ কীভাবে শিবিরের ‘ফাঁদে’ একযোগে পা দিয়ে আওয়ামী লীগকে ঝাড়ে-বংশে দেশছাড়া করলো— এজন্য আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের উচিত লজ্জায় ভারতে না মংগলগ্রহে পালানো।
তাও ঐ শিবির নেতা নিজের পরিচয় নিজেই উন্মোচন করেছে, আওয়ামী লীগের গোয়েন্দা বাহিনী উন্মোচন করতে পারেনি। শিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ফেসবুকে নিজ উদ্যোগে নিজের পরিচয় জানানোর আগ পর্যন্ত গোটা আওয়ামী লীগ এবং তাদের ডিবি-এসবি-সিআইডি জানতই না ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবির-সভাপতি কে!- এটা আওয়ামীলীগ সরকারের চরম ব্যর্থতা।
পুলিশের মাধ্যমে সরকারে টিকে থাকা মাত্রাতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসে ভোগা জনবিচ্ছিন্ন আওয়ামী লীগ টের পাওয়ারই প্রয়োজন বোধ করেনি টাইটানিকের নিমজ্জনের মতো স্রেফ এক টুকরো বরফ খণ্ড তাদেরকে ডোবানোর জন্য ধেয়ে আসছে।
জুলাই-আগস্টের দেশ ব্যাপি সরকার বিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে শেষ পর্যন্ত গণ আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার পতনের সফল রূপকার হিসেবে শিবিরের নেতা কর্মীদের সুকৌশল, বুদ্ধি, সুদুর প্রসারী পরিকল্পনা, আন্দোলনে নেতৃত্ব, রাজপথে মিছিল ও গণ ভবন গেরাও কর্মসুচীতে আওয়ামী বিরোধী সকল জনগণকে একত্র করার মাধ্যমে সফল হয়েছে । তারা আবারো প্রমান করলো, ছাত্র শিবির নেতা কর্মীদের সাংগঠনিক দক্ষতা অন্য সব ছাত্র সংগঠনের চেয়ে অনেক এগিয়ে।
রাজনীতি দাবা খেলার মতো। একজন দক্ষ রাজনৈতীক নেতা একজন দক্ষ দাবারুর মতো বিপক্ষকে পরাজিত করার জন্য সুচিন্তিত চাল দিবে, দুরদর্শী পরিকল্পনা করবে। এবারের রাজনীতির চালে শিবির ছাত্র নেতারা জয়ী হলো।
সর্বশেষে বলবো, বর্তমান নেতাদের প্রথম কাজ হলো , দেশে শান্তি-শৃংখলা ফিরিয়ে আনা, মারামারি-খুন খারাবি- লুটপাট বন্ধ করার দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া, অযথা মানুষকে হয়রানী বন্ধ করা, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্টা করা।
প্রিয় দেশবাসীর জন্য শুভকামনা। সবাই নিরাপদে, শান্তিতে ও তিন বেলা পেট ভরে খেয়ে দিনাতিপাত করুক।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by BD IT HOST